বার্তাবাংলা ডেস্ক »

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন নিকি হ্যালি। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন নিকি। তার এ পদত্যাগের পরই গুঞ্জন শুরু হয়েছে কে হচ্ছেন নিকির উত্তরসূরি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ শূন্য পদ পূরণ করতে বেছে নিতে পারেন তারই সাবেক সহকারী নিরাপত্তা পরিষদের উপদেষ্টা ডিনা পাওয়েলকে। এমনকি এ পদের জন্য ঘোষণা হতে পারে খোদ প্রেসিডেন্ট কন্যা ইভাঙ্কার নামও।

ইভাঙ্কা জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেলে সেটা হবে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

তবে ইভাঙ্কা রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আসতে পারে। তবে ট্রাম্প চাইলেও এ পদে আসতে ইচ্ছুক নন প্রেসিডেন্ট কন্যা। ইভাঙ্কার এক টুইট বার্তা যেন সে কথায় বলছে।

টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘হোয়াইট হাউজে মহৎ সব সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে পারাটা অনেক সম্মানের। আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট হ্যালির পরিবর্তে দুর্দান্ত কাউকে বেছে নেবেন। তবে সে ব্যক্তি অবশ্যই আমি না।’

চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন সাংবাদিক ও লেখক মাইকেল উলফের লেখা ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি’ বইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিকি হেইলির প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে জানানো হয়। বইয়ে প্রকাশিত এই গুজব ছড়িয়ে পড়ায় নিকি হেইলি মুখ খুলতে বাধ্য হন। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রেমের গুজবের ব্যাপারে তিনি বলেন, এটা অত্যন্ত বিরক্তিকর।

হেইলির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের ব্যাপারে এইচবিও প্রোগ্রামের বিল মাহেরকে বলেছিলেন, ট্রাম্পের ব্যাপারে তার কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য ছিল; যা তিনি বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তবে চূড়ান্ত প্রমাণ না থাকায় তিনি বই থেকে বাদ দিয়েছেন।

তবে তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বইটির শেষ লাইন পর্যন্ত পাঠককে পড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এরপরই আপনি চমকপ্রদ বিষয়টি জানতে পারবেন।

এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় যে এয়ার ফোর্স ওয়ানের বিমানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একান্তে সময় কাটিয়েছেন নিকি হেইলি। টুইটের শেষ জুড়ে দেয়া হয়, রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে ট্রাম্পের।

এদিকে, গুজবের জবাবে হেইলি বলেছিলেন, ‘এই অভিযোগ চরম বিব্রতকর’, ‘বিরক্তিকর’ এবং ‘আসলেই এটি ঠিক নয়’। তিনি বিমানে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শুধুমাত্র তখনই ছিলেন; যখন সেখানে আরো অনেকেই উপস্থিত ছিল। আমি কখনোই সেখানে একা ছিলাম না।

পদত্যাগকারী মার্কিন এই রাষ্ট্রদূত সেই সময় বলেন, অধিকাংশ পুরুষই নারীদের সম্মান করেন। তবে অল্প কিছু পুরুষ আছেন যারা নারীকে সম্মান দিতে জানেন না; তারাই নারীকে নিয়ে এমন গুজব ছড়ায়।

নিকি হেইলি ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন রাজনীতিক। ২০১০ সালে সাউথ ক্যারোলাইনার গভর্নর নির্বাচিত হন তিনি।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »