বার্তাবাংলা ডেস্ক »

বাঙালির খাবারে পেঁয়াজ থাকবেই। অধিকাংশ রান্নায় তো বটেই, সালাদ কিংবা ভাজাপোড়ার সঙ্গেও কাঁচা পেঁয়াজ থাকে। এই পেঁয়াজের রয়েছে অনেক গুণ। ৬৪ ক্যালরি, ১৫ গ্রাম কার্বোহাউইড্রেট, ৩ গ্রাম ফাইবার, ২ গ্রাম প্রোটিন, দিনের চাহিদার ১০ শতাংশ ভিটামিন সি, বি৬ এবং ম্যাঙ্গানিজ রয়েছে এই সবজিটিতে। এর পাশপাশি পেঁয়াজে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফলেট, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টর মতো উপাদান, যা শরীরের পুষ্টির ঘাটতি তো দূর করেই, সেইসঙ্গে আরও অনেক উপকারে লেগে থাকে।

নিয়মিত একটি করে কাঁচা পেঁয়াজ খেলে শরীরে এত মাত্রায় ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের প্রবেশ ঘটে যে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়ে উঠতে সময় লাগে না। আর এমনটা হলে ছোট-বড় কোনো রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

নিয়মিত পেঁয়াজ খাওয়া শুরু করলে শরীরে ফলেটের ঘাটতি দূর হয়। সেইসঙ্গে ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে মন-মেজাজ চাঙ্গা হয়ে উঠতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে একদিকে যেমন স্ট্রেস লেভেল কমে, তেমনি মানসিক অবসাদও দূরে পালায়।

রান্না করতে গিয়ে হাত পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা ঘটতেই পারে। এক্ষেত্রেও পেঁয়াজ দারুণ উপকারে লাগে। কিভাবে? শরীরের কোথাও পুড়ে গেলে ক্ষতস্থানে এক টুকরো পেঁয়াজ কিছু সময়ের জন্য রেখে দিন। অল্প সময়েই দেখবেন জ্বালাভাব কমে যাওয়ার সঙ্গেসঙ্গে ক্ষতও সেরে গেছে।

নিয়মিত কাঁচা পেঁয়াজ খেলে ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে স্মৃতিশক্তির যেমন উন্নতি ঘটে, তেমনি নার্ভাস সিস্টেমের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে একাধিক ব্রেন ডিজিজ হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

শরীরে ভালো কোলেস্টেরল বা এইচ ডি এল-এর মাত্রা বাড়িয়ে একদিকে যেমন শরীরকে চাঙ্গা রাখে, তেমনি খারাপ কোলেস্টরলের পরিমাণ কমিয়ে হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায়।

একটা পেঁয়াজ কেটে নিয়ে তার রস সংগ্রহ করে নিন। তারপর তাতে কয়েক ড্রপ মধু মিশিয়ে এই মিশ্রণ দিনে কম করে দুবার পান করলেই কাশি কমতে শুরু করবে।

গোল করে পেঁয়াজ কেটে আঁচিলের উপর রেখে একটা কাপড় দিয়ে বেঁধে দিন। যাতে সেটি পরে না যায়। প্রতিদিন রাতে শুতে যাওয়ার আগে এমনটা করলে অল্প দিনেই দেখবেন আঁচিল খসে পরে গেছে।

ব্রেন, কোলোন এবং ঘারের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে শূন্যতে এসে দাঁড়ায় যদি প্রতিদিন পেঁয়াজ খাওয়া যায়।ঘুম নিয়ে সমস্যায় ভুগলে প্রতিদিনের ডায়েটে পেঁয়াজ থাকা চাই। কারণ ইনসমেনিয়ার মতো রোগের উপশমে এটি দারুণ কাজে আসে।

জ্বর হলে শুতে যাওয়ার আগে একটা পেঁয়াজ কেটে নিন। তার সঙ্গে অল্প করে আলু এবং দুই কোয়া রসুন মিশিয়ে মোজার মধ্যে রেখে সেই মোজা পরে শুয়ে পরুন। এমনটি কয়েকদিন করলেই দেখবেন সুস্থ হতে শুরু করেছেন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »