মৌলভীবাজারে- হেফাজতে ইসলামের হরতাল পালিত » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Pic----Kamalgonj---Hefajot
এস এ চৌধুরী,মৌলভীবাজার:: মৌলভীবাজারে হেফাজতে ইসলামের সারা দেশে- দিনব্যাপী ডাকা হরতালের অংশ হিসেবে জেলার সর্বত্রই পালিত হয়েছে। জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার,রহিমপুর,চৈত্রঘাট ও আদমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় হরতাল চলাকালে বিভিন্নস্থানে মিছিল-পিকেটিং হয়েছে। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের কর্মীরা পিকেটিং করে। সকাল সাড়ে ৮টায় শ্রীমঙ্গল থেকে সংবাদপত্রের গাড়ি কমলগঞ্জে আসার সময় হেফাজত কর্মীরা আটকে দিলে পুলিশের সহযোগিতায় রিক্সা দিয়ে পত্রিকা কমলগঞ্জে আসে। দুপুরে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের নুরজাহান এলাকায় পিকেটাররা একটি সিএনজি অটোরিক্সা ভাংচুর করে। সকাল সাড়ে ৮টায় চৈত্রঘাট বাজার এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে স্থানীয় মাদ্রাসার ছাত্র ও হেফাজত কর্মীরা প্রায় ৩ ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। বাইসাইকেল পর্যন্ত চলতে দেয়া হয়নি। সমর্থনকারীরা রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ঠি করলে খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসনের জেলা কর্তাব্যক্তিরাসহ কমলগঞ্জ থানা পুলিশের দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও উত্তেজনা বিরাজ করছিল ।  রাস্তায় পুলিশের টহলদল ছিল। তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবরসহ আটক গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি।  দুপুরে ইসলামপুর থেকে হেফাজত কর্মীদের সাথে যোগ দিয়ে জামায়াত-বিএনপি মিলে প্রায় ৪ শতাধিক লোক মিছিল নিয়ে উপজেলা চৌমুহনার দিকে আসতে চাইলে পুলিশ আদমপুর বাজারে তাদেন আটকে দেয়াতে  আদমপুর চৌমুহনা চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে হেফাজত কর্মী ও বিএনপি-জামাতের লোকজন বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত ১৩ দফা মেনে নেয়াই হচ্ছে তৌহিদী জনতার দাবী।
অফিস আদালতে লোকজনের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের চেয়ে কম ও  দূরপাল্লার বাস ব্যতীত দু-এক জায়গায় হালকা যানবাহন আংশিক চলাচলসহ দোকানপাট খোলা  থাকলেও জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্ঠি হয়েছিল। তবে কমলগঞ্জে স্মরণকালের এ হরতাল চলাকালে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ছিল। অধিকাংশ দোকানপাটগুলোও ছিল বন্ধ। রাস্তায় যান চলাচল না থাকায় অফিসগামী লোকসহ সাধারণ লোকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেকে পায়ে হেটে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলে জরুরী কাজে যেতে দেখা গেছে। অনেকের নানান কাজের প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও-বিএনপির  নেতৃত্বাধীন ১৮দলের ডাকা আগামীকাল থেকে ৩৬ঘ: হরতালসহ টানা তিন(প্রায়) দিনের হরতালের আজ প্রথম দিনে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। বাস চালক ও সিএনজি চালকদের মাথায় হাত দিয়ে ষ্ট্যান্ডে বসে গল্পগুজব করে অলস সময় পার করতে দেখা গেছে। আতংকিত হয়ে অনেকেই সিএনজি বের করেননি।
আজকের হরতাল প্রসঙ্গে কমলগঞ্জ উপজেলার সদ্যযোগদানকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সাথে মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বার্তা বাংলাকে বলেন,মুন্সীবাজার ও চৈত্রঘাট এলাকায় হরতাল সমর্থনকারীরা রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ঠি করলে খবর পেয়ে আমি কমলগঞ্জ থানা পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পাঠালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং দুপুর ১ঘ: উত্তেজনা বিরাজ করছিল । তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জননিরাপত্তারস্বার্থে রাস্তায় পুলিশের টহলদল ছিল।
এদিকে হরতাল বিষয়ে জেলা সদর থানার ওসি মুঠোফোনের মাধ্যমে বার্তা বাংলাকে বলেন, কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো আটক গ্রেফতার করা হয়নি। কোনো প্রকার সহিংসতা ছাড়াই পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

আমি ফারজানা চৌধুরী তন্বী। লেখালিখি করি ফারজানা তন্বী নামে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পর আজ প্রায় পাঁচ বছর ধরে লেখালিখির সঙ্গেই আছি। বার্তাবাংলা’য় কাজ করছি সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে। আমার বিশেষ আগ্রহের ক্ষেত্র ফিচার, প্রযুক্তি আর লাইফস্টাইল। ভালো লাগে ভ্রমণ, বইপড়া, বাগান করা আর ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে থাকা :)

মন্তব্য করুন »