রূপচর্চায় গ্লিসারিন

রূপচর্চায় গ্লিসারিন

শুষ্ক মৌসুমে ঠোঁট, হাত ও পায়ের আর্দ্রতা ধরে রাখবে গ্লিসারিন। সুমন ইউসুফসামনে আসছে শীতকাল। শুষ্ক এই মৌসুমে অনেকেরই হাত-পায়ের ত্বক ও ঠোঁট ফেটে যায় অতিরিক্ত শুষ্কতার কারণে। এ রকম সময়ে ত্বকের যত্নে বা রূপচর্চায় গ্লিসারিনের ব্যবহার দেখা যায়। গ্লিসারিন মেশানো প্রসাধনীর ব্যবহারও নতুন নয়।

ময়েশ্চারাইজার হিসেবে গ্লিসারিন সহজলভ্য হলেও দীর্ঘদিন একটানা ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে গ্লিসারিন বা গ্লিসারিন মেশানো কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করা হলে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়তে পারে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হরষিত কুমার পাল বলেন, গ্লিসারিন ব্যবহারের মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। একদিকে গ্লিসারিন পরিবেশ থেকে পানি শোষণ করে, যার ফলে ত্বক আর্দ্র ও কোমল হয়। আবার গ্লিসারিন ব্যবহারের একসময় যখন তা ধুয়ে ফেলা হয়, তখন এর সঙ্গে ত্বকের স্বাভাবিক ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় তেলজাতীয় উপাদান ধুয়ে যায়। এর ফলে ত্বকে শুষ্কতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। গ্লিসারিন ত্বকের প্রয়োজনীয় তেলজাতীয় উপাদান শোষণ করে নেয় বলে এমনটা হয়।

হারমনি স্পার আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা জানালেন গ্লিসারিনের ব্যবহার কখন এবং কী অবস্থায় দরকারি।যাঁদের ত্বক শুষ্ক, তাঁরা সমপরিমাণ গ্লিসারিন, গোলাপজল ও জলপাই তেল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে এই মিশ্রণে গোলাপজলের পরিমাণটা অর্ধেক করে নিতে হবে। ঠোঁট, হাত, পা এবং শরীরের অন্য যে অংশের ত্বক ফেটে যায়, রাতে ঘুমানোর আগে সেসব স্থানে গ্লিসারিন, জলপাই তেল ও গোলাপজলের মিশ্রণ লাগিয়ে রাখতে পারেন। এসব স্থানে চাইলে সরাসরি গ্লিসারিনও মাখা যাবে। তবে মিশ্রণ ব্যবহার করাই ভালো। প্রয়োজনে নখের গোড়া বা কিউটিকলেও গ্লিসারিনের মিশ্রণ লাগাতে পারেন গোসলের পর।

গ্লিসারিনের সঙ্গে মেশানোর জন্য গোলাপজলের পরিবর্তে পানিও ব্যবহার করা যায়।মুখের ত্বকে গ্লিসারিন সরাসরি না লাগানো ভালো।ঠোঁটের কালচে ভাব দূর করে, ঠোঁটে গোলাপি আভা আনতে গ্লিসারিন ও গোলাপের পাপড়ির সঙ্গে ২ থেকে ৩ ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ঠোঁটে লাগাতে পারেন। অথবা বীটমূলের রস ও গ্লিসারিনের মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন। উপকার পাবেন।অতিরিক্ত শুষ্ক মৌসুমে গ্লিসারিন ব্যবহার করা যেতে পারে। আর যাঁদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, তাঁরাও এটি স্বল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করতে পারেন।