বার্তাবাংলা ডেস্ক »

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা নামে হোটেলটি নতুন সাজে নতুন রূপে উদ্বোধন করে বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতায় যোগ হলো বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অনন্য সাক্ষী হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা। তিনি বলেন, সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ এই হোটেলটি বিশ্ব গ্রাহকদের কাছে নতুন এক চমক সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে। এই হোটেল বিদেশি পর্যটক ও অতিথিদের ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত কাজের ক্ষেত্রে আরও আকৃষ্ট করবে। ফলে দেশের জিডিপিতে যোগ হবে বাড়তি মাত্রা।

ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠনে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজহান কামাল, মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মহিবুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠানস্থলে এসে হোটেলটি উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী হোটেলটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথমে এই ইন্টারকন্টিনেন্টাল গ্রুপ ১৯৬৬ থেকে ১৯৮৩ পর্যন্ত এ হোটেলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল। মাঝখানে দীর্ঘদিন শেরাটন কোম্পানি হোটেলটি পরিচালনা করে। তখন এর নাম ছিল শেরাটন। এরপর ওই কোম্পানি চলে গেলে এটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ, তখন এর নাম ছিল হোটেল রূপসী বাংলা। কন্টিনেন্টাল পুনরায় চুক্তি করে ফের হোটেল কন্টিনেন্টাল নামে ব্যবসা শুরু করেছে। এ জন্য তাদের জানাই ধন্যবাদ।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭০-এর নির্বাচনের পর থেকে এখানে অনেক রাজনৈতিক ঘটনা সংঘটিত হয়। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এখানেই দুই দফা আক্রমণ চালিয়েছিলেন সেক্টর দুইয়ের অধীন ক্র্যাক প্লাটুন খ্যাত গেরিলারা। ১৭ জন তরুণের মুক্তিযোদ্ধার দল বাঙালি জাতির মুক্তি এবং পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঢাকায় প্রথম গেরিলা অপারেশন ‘অপারেশন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-হিট অ্যান্ড রান’ চালাতে আসেন। অত্যন্ত সফল এ অভিযানের মাধ্যমেই মূলত বাঙালির প্রতিরোধ যুদ্ধ সম্পর্ক জানতে সক্ষম হয় পুরো পৃথিবী।

তিনি বলেন, আজ যখন ইন্টারকন্টিনেন্টাল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কথা বলছি তখন মনে পড়ছে সেই সব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের সাথে জড়িয়ে রয়েছে স্বাধীনতা যুদ্ধের বহু স্মৃতি। এটি আমাদের জন্য নিশ্চয়ই আনন্দের বিষয় যে, হোটেলটি পুনরায় আগের চেয়ে আরও আধুনিক সেবা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নতুন উদ্যোমে চালু হতে যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ৬০ বছরের পুরনো ভবন সংস্কারের মাধ্যমে নতুন রূপে সেজেছে পাঁচতারকা এই হোটেল। ভবনের মূল কাঠামো ঠিক রেখে যুক্ত করা হয়েছে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মোগল স্থাপত্যশৈলী। সঙ্গে আধুনিক সময়ের চাহিদা মেটাতে আনা হয়েছে অবকাঠামোগত পরিবর্তন। এটি অনেক বছরের পুরনো একটি হোটেল। বর্তমানে আমাদের দেশে আন্তর্জাতিক মানের আরও আধুনিক হোটেল রয়েছে। সে হিসেবে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে হোটেলটিকে নতুন রূপ দেওয়ার দরকার ছিলো।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান রক্ষার জন্য হোটেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশে নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী ইন্টারকন্টিনেন্টালে যে ধরনের সেবা ও সুবিধা পাওয়ার কথা, এই হোটেলটিকেও সেভাবে অতিথিদের জন্য নতুন রূপে গড়ে তোলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ প্রতিটি সেক্টরে বিশ্ব সভায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ইতিহাস-ঐতিহ্য আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় নতুনভাবে সজ্জিত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল দেশে ও বিদেশে সুনাম কুড়াতে সক্ষম হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে সারা বিশ্বের সাংবাদিকরা এই হোটেলে অবস্থান করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর সাংবাদিকরা এখানে সমবেত হন সংবাদ সংগ্রহের জন্য। জুলফিকার আলী ভুট্টো এই হোটেলে এসেছিলেন এবং এখান থেকে ২৫ মার্চ গণহত্যার নির্দেশ দেন। এসব দিক থেকে এই হোটেলটি অনেক স্মৃতি বহন করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গত চার বছর ধরে পাঁচতারকা এ হোটেলটির সংস্কার কাজ চলছিল। দুই মাস পর অর্থাৎ নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে হোটেলটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে। হোটেলটিতে কক্ষের সংখ্যা রয়েছে ২২৬টি।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »