বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Dating App

রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশে ও বিশ্বে সাম্প্রতিক সময়ে এক আলোচিত ও সমালোচিত একটা বিষয়। এই সমস্যা যতটা না সমাধানের কথা তার চাইতে জটিলতার দিকে যাচ্ছে দিন দিন। রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার জন্যে বিভিন্নভাবে আর্ন্তজাতিক মহল থেকে নির্দেশনা আসলেও ,তার কোন দৃশ্যমান ও কার্যকরী পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বরং আরো দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে সমাধানের পথ। বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট অনু্যায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

গত বছরের ২৫ শে আগস্ট শুরু হওয়া সেই বর্বরতা থেকে মুক্তি পেতে ও জীবন বাঁচাতে যে যেভাবে পারে সব কিছু ছেড়ে চলে আসে বাংলাদেশে। কেউ রেখে আসছে পরিবার, আবার কেউ দেখে আসছে পরিবারের কাউকে মরতে। কেউ নিয়ে আসছে কাউকে কাঁধে করে বা ঝুড়িতে করে। শুধু জানটা বাঁচানোই যেন উদ্দেশ্য ছিল তাদের।এখন অবশ্যই তাদের চাহিদার ও পরির্বতন হচ্ছে সময়ের আর্বতে।

উদার মানসিকতার পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে পরম আশ্রয় দিয়ে কেউ কেউ অনেক বড় বড় খেতাব ও অর্জন করল। কেউ মুসলিম হিসাবে না হলেও মানবতার খাতিরে বাংলাদেশী তাদের পাশে দাঁড়ালো সর্বোচ্চোটা দিয়ে। বিভিন্ন সামাজিক ব্যক্তি বর্গ,সমাজ সেবক, সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন মহলের লোক তাদের পাশে এসে দাঁড়াল বিশ্বমানবতার খাতিরে।

আগে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্যে কুতুপালং ও নোয়া পাড়া মুচনি ক্যাম্প নামে দুইটা ক্যাম্প থাকলেও বর্তমানে এই ক্যাম্পের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ টা তে। এ যেন খাল কেটে কুমির আনল বাংলাদেশ। যত দিন যাচ্ছে ততই যেন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের পথ জটিল থেকে জটিলতার দিকে যাচ্ছে। যেখান রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার কথা সেখানে আনুপাতিক ও সমানুপাতিক হারে বাড়ছে তাদের সংখ্যা। গত এক বছরে নতুন করে জন্ম নিল ৬০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু।

বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে এই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের প্রস্তাব আসলেও নেই কোন কার্যকরী পদক্ষেপ। তবে সরেজমিনে দেখা যাচ্ছে কার্যকরী হচ্ছে শুধু বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার স্থায়ী ক্যাম্প। হাজার হাজার স্থায়ী ক্যাম্প গুলো তৈরী করতে যেমন ব্যবহার করছে স্থানীয় চাষ যোগ্য জমি, আর এই সব বেসরকারি সংস্থা গুলোতে নিয়োগ দিচ্ছে স্থানীয় স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের। এই নিয়ে সচেতন মহল উদ্বিগ্ন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

“আগে তারা চিন্তা করতো পড়াশুনা করবে,অনেক বড় হবে কিন্তু এই এনজিও গুলো আসাতে সবাই পড়াশুনার চাইতে বেশি দামের চাকরি কে প্রাধান্য দিচ্ছে। হাত বাড়ালেই পাচ্ছে চাকরি তাই পড়াশুনার কি দরকার সেইটা মনে করছে। এই ভাবে হলে তো আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে হারাব,বলছিলেন ইউপি সদস্য ৩ নং ওয়ার্ড় উনছিপ্রাং।

এম এস শাহীন

এম এস শাহীন ,শিক্ষার্থী,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

ক্যাম্পের আশে পাশে বাড়ছে নিয়মিত চুরি ডাকাতি, খুন খারাপি। একটু এইদিক থেকে সেই দিক হলে স্থানীয়দের উপর চওড়া হচ্ছে এই রোহিঙ্গারা। গত মার্চে রোহিঙ্গাদের অবৈধ ব্যবসায় বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সাথে ঘটে বিরাট সংঘর্ষ। তাতে থাইংখালীর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পাচঁ পুলিশ সদস্য সহ আহত হয় প্রায় ২০/২৫জন। পরে বিজিবি ও পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
গত ২৫ শে আগস্ট রাস্তায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার রোহিঙ্গা এসে রাস্তা ব্লক করে মিছিল বের করে। এতে তাদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া তুলে ধরেন এবং তাদের উপর বর্বরতার বর্ষপূর্তি পালন করেন। ৩০ মিনিটের ও বেশি সময় ধরে তারা এই কর্মসূচি পালন করে।
অ্যামনেস্টির ক্রাইসিস রেসপন্স ডিরেক্টর তিরানা হাসান বিবৃতিতে বলেন, ‘এই বর্ষপূর্তি লজ্জাজনক একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। মানবতাবিরোধী সেসব অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ব্যর্থতার মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিপজ্জনক যে বার্তা দিয়েছে, তা হলো মিয়ানমারের সেনাবাহিনী শুধু দায়মুক্তিই ভোগ করবে না, তারা আবারও এ ধরণের নৃশংসতা চালাতে পারবে। আমাদের অবশ্যই আর এমন ঘটনা ঘটতে দেওয়া উচিত হবে না।’

তিরানা হাসান বলেন, “রোহিঙ্গা এবং মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের সংখ্যালঘুদের জন্য সুবিচার নিশ্চিতের পথ তৈরি করতে আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল ও সাধারণ পরিষদের বৈঠকে কঠোর এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচিত জরুরি ভিত্তিতে পুরো পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে জানানো। এ ক্ষেত্রে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের হুমকি কোনো অজুহাত হতে পারে না।”

স্থানীয়দের মধ্যে এখন ভোগান্তি যেমন চরম পর্যায়ে ঠিক তেমনি তাদের মনে প্রশ্ন অধো কি রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে ?? নাকি দিন দিন জটিল থেকে জটিলতায় রুপ নিবে?

Dating App
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »