জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদ উন্নীতকরণে আপত্তি

নির্বাচন কমিশন

নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালকের পদসহ ৪৫ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদ উন্নীতকরণে আপত্তি তুলেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের সিদ্ধান্তে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পদ দুটিকে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও পঞ্চম গ্রেডে উন্নীত দেখতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

জানা যায়, ইসির মাঠপর্যায়ে ৬৪ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মধ্যে ১৯টি জেলার কর্মকর্তাদের পদ পঞ্চম গ্রেডের অর্থাৎ উপসচিব পদমর্যাদার। সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা ওই জেলাগুলোতে পদায়ন পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে বাকি ৪৫ পদের কর্মকর্তারা ইউএনও সমমর্যাদার। এতে মাঠপ্রশাসনে বড়ধরনের জটিলতা ও বৈষম্য চলে আসছে। এ অসমতা দূর করতে নির্বাচন কমিশনের নীতিনির্ধারকরা একমত হয়ে জনপ্রশাসনে প্রস্তাব পাঠায়।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম-সচিব মো. আবুল কাশেম এ প্রসঙ্গে বলেন, জনপ্রশাসন ইসির প্রস্তাবটি আবারও কিছু সংযোজন-বিয়োজন করার জন্য ফেরত পাঠাতে চেয়েছিল। তবে কমিশনের কর্মকর্তা হিসেবে মন্ত্রণালয়কে বলেছি, এটি অনুমোদন দিয়ে ফেরত পাঠানোর জন্য। কারণ এই প্রস্তাবটি ইসির একার অভিপ্রায় নয়, সরকারেরও।

আশা করছি, মন্ত্রণালয় কমিশনের অনুমোদিত প্রস্তাব ফেরত পাঠানোর আগে বিবেচনা করবেন, যোগ করেন কমিশনের এই যুগ্ম-সচিব।

ইসির কর্মকর্তারা বলেন, সংসদের উপ-নির্বাচন, বিভিন্ন সিটি নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তা অর্থাৎ রিটার্নিং কর্মকর্তা (আরও) করা হয় কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের। শুধুমাত্র জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয় জেলা প্রশাসকদের (ডিসি)। এ নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হয় ইসির কর্মকর্তারা। কিন্তু সংসদের উপ-নির্বাচনসহ স্থানীয় নির্বাচনে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হলে প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের অধীনস্থ হন। কিন্তু নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তার পদমর্যাদা অধীনস্থদের সমমান অথবা একধাপ কিংবা আরও নিচে থাকায় অনেক সময় তাদের নির্দেশ মানেন না।

মাঠপর্যায়ে এ পদমর্যাদা ও বেতন বৈষম্য নিরসনে কমিশন গত ২৫ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠায়। আর গত ৩০ আগস্ট মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে সভা হয়। সভায় মন্ত্রণালয় আপত্তি জানায়। তবে কমিশনের প্রতিনিধিরা যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব গ্রহণে মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি উত্থাপন করেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় তাদের প্রস্তাব মানেনি।

সূত্র জানায়, এ প্রস্তাব অনুমোদন হলে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এতে আপত্তি তোলায় কমিশনের অনুমোদিত প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। আর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে সন্তোষ।