লিটনকে বাঁচাতে প্রয়োজন ১০ লাখ টাকা

লিটন

সবার মায়া ছেড়ে ওপারে যাইতে মন চাচ্ছে না। বাঁচতে খুব ইচ্ছে করতেছে।’ শরীরে মরণব্যাধি লিম্ফোমা ক্যানসার নিয়ে এভাবেই ফেসবুক স্ট্যাটাসে মনের ইচ্ছার কথা লিখেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনজির লিটন। বর্তমানে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। কেবিনে শুয়ে রঙিন স্বপ্নগুলোকে মরতে দেখছেন মেধাবী এ শিক্ষার্থী।

লিটনের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকেই যাচ্ছে। আর এ জন্য যত দ্রুত সম্ভব তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

গত ৩ সেপ্টেম্বরই লিটন প্রথম জানতে পারেন তিনি লিম্ফোমা ক্যানসারে আক্রান্ত। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিগগিরই উন্নত চিকিৎসা না দেয়া হলে তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হবে না। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ১০ লাখ টাকা।

লিটনের সহপাঠীরা জানান, লিটনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু অর্থের কাছে হেরে যাচ্ছে মেধাবী এ শিক্ষার্থীর জীবন।

আর তাই মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর লিটন আক্ষেপ নিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন- ‘পৃথিবীতে এত কম সময় নিয়ে এসেছি বুঝতেই পারিনি। পৃথিবীটা বড় মায়াবী। কত মায়াবী মুখ। কিন্তু আমার কী দোষ ছিল? আমিও তো সাধারন জীবনযাপন করতেছিলাম। সবার সাথে মিলেমিশে চলতেছিলাম। সবার মায়া ছেড়ে ওপারে যাইতে মন চাচ্ছে না। বাঁচতে খুব ইচ্ছে করতেছে।’

ছলছল চোখে একই কথা এ প্রতিবেদকের কাছে বলছিলেন লিটন। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা লিটনের গ্রামের বাড়ি নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার আকাশপুরী গ্রামে।

বাবা মাহাবুর রহমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং মা গৃহিণী। ছেলের চিকিৎসার টাকার চিন্তায় এখন দিশেহারা এখন বাবা-মা। তাদের পক্ষে এ ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। তারা চান সমাজের বিত্তবানদের সহায়তায় সুস্থ হয়ে উঠুক তাদের সন্তান।

এদিকে লিটনের জীবন বাঁচাতে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বেরোবির অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস্ বিভাগের প্রধান মো. শাহীনুর রহমান। তিনি বলেন, বিভাগের পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে মেধাবী এ তরুণের জীবন বাঁচাতে নিজেদের সহযোগিতার পাশাপাশি হৃদয়বানদের এগিয়ে আসার আবেদন জানাচ্ছি।