বার্তাবাংলা ডেস্ক »

টাইফুন জেবির প্রভাব কাটিয়ে না উঠতেই জাপানে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ছয়ের বেশি। জেবি শুরুতে শিকোকু দ্বীপে আঘাত হেনে উত্তর দিকে ধেয়ে যায়। হোনশু দ্বীপের পশ্চিমাঞ্চলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়ে জাপান সাগরে আসে। এরপর পূর্ব দিক বরাবর এগিয়ে গিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। এর প্রভাবে হোক্কাইডো দ্বীপে ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বুধবার দিনের প্রথমার্ধে এর সমাপ্তি ঘটে।

জেবি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় হোক্কাইডোতে কোনো রকমে ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে না পারেনি। তবে এর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে হোক্কাইডো দ্বীপের দক্ষিণে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

হোক্কাইডোর প্রধান শহর সাপ্পোরোর দক্ষিণে অবস্থিত আৎসুমা ও আবিরা শহরে ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ভূমিধস ঘটে। বেশ কিছু বাড়িঘর মাটিচাপা পড়ে কমপক্ষে ৩০ জন নিখোঁজ বলে জাপানের সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়। সাপ্পোরোতেও লোকজনের আঘাত পাওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়। কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত তামারি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাব্য ক্ষতি হওয়া নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ ও ৩ নম্বর চুল্লির ব্যবহৃত জ্বালানির শীতলীকরণ প্রক্রিয়া চলতে থাকা অবস্থায় বাইরে থেকে আসা একটি বিদ্যুৎ-সংযোগের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। তবে কোনো বিপর্যয় ঘটেনি। বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারপাশে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে।

ভূপৃষ্ঠের ৩৭ কিলোমিটার নিচে ঘটে যাওয়া ভূকম্পনটি ছিল জাপানি পরিমাপকের হিসাবে ৬ মাত্রার চেয়ে বেশি শক্তিশালী। কোনো রকম সুনামি সতর্কতা জারি না করা হলেও সাপ্পোরোর চিতোসে বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর বিস্তৃত এলাকাজুড়ে উপর্যুপরি পরবর্তী কম্পন অনুভব করা যায়। নিখোঁজ লোকজনের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চালানোর পাশাপাশি ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ফেলার কাজে সাহায্য করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবীরা এখন হোক্কাইডোর উদ্দেশে যাত্রা করেছেন।

জাপানের আবহাওয়া এজেন্সি জানায়, রাত তিনটার একটু পরে আঘাত হানা ভূমিকম্পের তীব্রতা এর কেন্দ্রস্থলে ছিল ৬ দশমিক ৭। ভূমিকম্পের ঠিক পরপর বিস্তৃত এলাকাজুড়ে প্রায় ৩০ লাখ বাসভবনে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পুরো এলাকা অন্ধকারে তলিয়ে যায়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে সকালে আয়োজিত এক অনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান ঠিক করে নেওয়ার একটি টাস্কফোর্স সরকার ইতিমধ্যে গঠন করেছে এবং জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনীর ২৫ হাজার সদস্যকে দুর্গত এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।

সাপ্পোরোর দক্ষিণের বেশ কয়েকটি শহরে জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান এর মধ্যে পূর্ণোদ্যমে শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, হতাহত লোকজনের সঠিক সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করে দেখতে আরও সময়ের দরকার হবে। সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এক খবরে মুকাওয়া শহরে ভূমিকম্পে একজনের মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। খবরে জানানো হয়, আৎসুমা শহরের ৩২ জন অধিবাসীর সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। এতে মৃত মানুষের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।

জাপান সরকার আজ জানায়, টাইফুন জেবিতে ক্ষতি হওয়া কানসাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট কাল শুক্রবার থেকে আবার চালু হবে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালুর অনুমতিও বিমানবন্দরকে দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »