বার্তাবাংলা ডেস্ক »

হাসপাতালে অভিযান চালাতে গিয়ে ঢুকলেন অপারেশন থিয়েটারে। দেখলেন, যেই বেডে রোগীর অপারেশন করা হয়, এর পাশেই বাটিতে রাখা কাঁচা চিংড়ি, রসের মিষ্টি। চিত্র দেখে প্রতিক্রিয়ায় র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বললেন, ‘একেবারেই অবিশ্বাস্য।’

চিত্রটি রাজধানীর ধানমন্ডির প্যানোরোমা হাসপাতালের। বৃহস্পতিবার রাতে এখানে অভিযান চালায় র‍্যাব ও ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর।

অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারে প্রচুর পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, সার্জিক্যাল সামগ্রী ও স্যালাইন পাওয়া যায়। এর চেয়েও মারাত্মক ব্যাপার হচ্ছে তাদের অপারেশন থিয়েটারে মুড়ি, চানাচুর, চিনি, চা কফি, চিংড়ি ও রসের মিষ্টি রাখা ছিল যা একেবারেই অবিশ্বাস্য। এছাড়াও প্যাথলজি টেস্ট রিপোর্টে একই প্যাথলজিস্টের নামে আট রকম স্বাক্ষর। এসব অনিয়মের কারণে তাদের ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

একই অভিযানে ধানমন্ডি জেনারেল অ্যান্ড কিডনি হাসপাতালে গিয়ে আদালত দেখতে পান, তারা কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়া ও বাধ্যতামূলক পাঁচটি সংক্রামক ব্যাধির নিরীক্ষা না করে রক্ত পরিসঞ্চালন করছেন। এছাড়া তাদের অপারেশন থিয়েটারেও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, প্যাথলজিস্টের স্বাক্ষর জাল করে রিপোর্ট প্রদান, রক্তের গ্রুপ ভুল নির্ণয় করে রক্ত পরিসঞ্চালন করা এবং অতিরিক্ত ও ভুয়া বিল আদায়ের মতো নানা অনিয়ম পাওয়া গেছে। এ জন্য হাসপাতালটিকে নয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে ধানমন্ডির আনোয়ার খান হাসপাতালের প্যাথলজি ল্যাবে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু রি-এজেন্ট পাওয়া যায়। এছাড়া তাদের অপারেশন থিয়েটারে ২০১৫ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ বেশ কিছু সার্জিক্যাল সামগ্রী পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটিকে আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

সারওয়ার আলম বলেন, আনোয়ার খান হাসপাতালের অন্যান্য বিষয় মোটামুটি সন্তোষজনক। কিছু বিষয়ে পরামর্শও দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও সহযোগিতা করেছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে নোট নিয়েছেন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »