বার্তাবাংলা ডেস্ক »

রোববার হুট করেই জানা যায়, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পন্সর হিসেবে আর থাকছে না মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি। ক্রিকেট বোর্ডের সাথে চুক্তির এক বছর বাকি থাকতেই তারা তা বাতিলের ঘোষণা দেয়। এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি বিসিবি, তবে খবরের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছিল রবির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে।

তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বিসিবির তরফ থেকে চুক্তির বেশ কিছু আনুষাঙ্গিক ব্যাপার পালনে অপারগতা প্রকাশ করায় চুক্তি বাতিল করেছে তারা। ভেতরের খবর ছিল, রবি জাতীয় দলের স্পন্সর থাকাকালীন সময়েই মাশরাফি, সাকিব, তামিমরা অন্য মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন করায়, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার কারণেই সরে দাঁড়িয়েছে তারা।

কিন্তু বিসিবি সভাপতির মুখ থেকে জানা গেল অন্য তথ্য। বৃহস্পতিবার বোর্ড পরিচালকদের সাথে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের পর এশিয়া কাপের দল ঘোষণা দেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। এ সময় তিনি কথা বলেন জাতীয় দলের স্পন্সর বিষয়ে সাম্প্রতিক ধোঁয়াশার ব্যাপারেও।

পাপন জানান রবির আপত্তিত মুখে মাশরাফি-তামিমরা নিজ নিজ চুক্তি বাতিল করেছিলেন; কিন্তু তবুও রবি এমন করে সরে যাবে তা বুঝতে পারেনি বিসিবি। তবে চুক্তি বাতিলের ধারা যে চুক্তির মধ্যে ছিল সেটিও জানান পাপন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন টেন্ডার করি তখন খেলোয়াড়রা অন্য কোথাও চুক্তি করতে পারবে কি-না এমন কোন ধারা ছিল না। এই সমস্যাটা সবসময় হয়। আসলে এতো টাকা দিয়ে বোর্ডের সাথে একটা কোম্পানি চুক্তি করলো। কিন্তু প্লেয়াররা আবার অন্য ব্র্যান্ডের সাথে চুক্তি করে তাহলে এই লাভটা স্পন্সর কোম্পানি পাচ্ছে না। এতে স্পন্সর করা কোম্পানির লাভ কি হয়? এটা সাধারণত সারা বিশ্বেই আছে। প্রতিযোগির সাথে চুক্তি করা যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে রবি আপত্তি করার পরে কিন্তু প্লেয়ারদের চুক্তি ক্যান্সেল করা হয়েছিল। তারপরও ওরা চলে যাবে আমরা ভাবিনি। হ্যাঁ, রবি আসার আগেই মাশরাফি-তামিমদের অন্য কোম্পানির সাথে চুক্তি ছিল। সেটাও আমরা বাতিল করিয়ে দিয়েছি। তারপরও রবি চলে যাবে আশা করিনি। তবে হ্যাঁ, যে কোন চুক্তিতেই বাতিলের ধারা থাকে।’

রবি চলে যাওয়ায় এখন স্পন্সরশূন্য বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। দুয়ারে কড়া নাড়ছে এশিয়া কাপ ক্রিকেট। এমাতবস্তায় স্পন্সরের ব্যাপারে কি ভাবছে বিসিবি? এমন প্রশ্নের জবাবে পরিষ্কার কিছু জানাননি বোর্ড সভাপতি। তবে তিনি ধারণা দিয়েছেন নতুন বছর শুরুর আগে সিরিজ বাই সিরিজ ধরে স্পন্সর নেবে বোর্ড।

পাপনের ভাষ্যে, ‘আমরা এ বিষয়ে যেটা মনে করি যে আমাদের হাতে অপশন দুইটা। প্রথমটা হল এখনি কাউকে লং টার্মে দিয়ে দেয়া আর অন্যটা হলো যেহেতু আর কয়েকটা মাস বাকি, চার মাসের মত আছে তাই সিরিজ বাই সিরিজ বেসিসে জানুয়ারি থেকে আমরা লং টার্মে যাব। দেখি… আমার ধারণা ভাল কিছুই পাব।’

 

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »