বার্তাবাংলা ডেস্ক »

মৌলভীবাজার, সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলার টিলাভূমি অরণ্য এলাকায় পুঞ্জি (গ্রাম) তৈরি করে বসবাস করে আসা খাসি আদিবাসীরা উচ্ছেদ আতঙ্কে ভুগছেন বলে জানিয়েছে গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভ (আরডিসি)। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়।

আরডিসি বলছে, ২০১৬ সালের ৩০ মে সরকারের পক্ষে মৌলভিবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত ‘অবৈধ দখল অপসারণের নোটিশ’ নামে একটি উচ্ছেদ নোটিশ দেয়ার পর থেকেই যেকোনো সময় উচ্ছেদ হতে পারেন- এমন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন খাসিরা।

আরডিসির চেয়ারপারসন এবং আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস’র টেকনোক্র্যাট সদস্য ও সমন্বয়ক প্রফেসর ড. মেসবাহ কামালের সঞ্চলনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য ও আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সদস্য নাজমুল হক প্রধান, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, আসলং পুঞ্জির খাসি হেডম্যান ডিবারমিন পতাম, বাংলাদেশ আদিবাসি ফোরামের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দিপায়ন খীসা প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আরডিসির সাধারণ সম্পাদক জান্নাত-এ-ফেরদৌসী। তিনি বলেন, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার নাহারপুঞ্জির ৩৪টি আদিবাসী খাসি পরিবারকে উচ্ছেদের জন্য ২০১৪ সালে হামলা চালানো হয়। ২০১৬ সালে মৌলভিবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ‘অবৈধ দখল অপসারণ নোটিশ’ নামে উচ্ছেদ নোটিশ দেন।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, দেশের আদি অধিবাসি হয়েও খাসিরা উচ্ছেদ আতঙ্কে ভুগছেন। এটা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে তুলনীয় বলে আমি মনে করি। রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমরা কাঁদছি। কিন্তু আমরা দেখছি খাসিরা রোহিঙ্গাদের মতো আচরণের শিকার হচ্ছেন। যে রাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের বিষয়ে খুবই সংবেদনশীল, সেই রাষ্ট্র সামান্য সংবেদশীলতা কি দেখাতে পারে না রোহিঙ্গাতুল্য মানুষগুলোকে।
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, খাসি পুঞ্জিতে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে তা একেবারে তৈরি করা সমস্যা। খাসিরা দীর্ঘদিন ধরেই এসব পুঞ্জিতে বসবাস করছেন। তারা অবৈধভাবে বসবাস করছেন না, বরং তাদের উচ্ছেদের প্রচেষ্টা চালানোয় অবৈধ। এই উচ্ছেদের চেষ্টায় তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। খাসিদের উচ্ছেদ করা যাবে না। আমরা চাই তারা পুঞ্জিতে যেভাবে বসবাস করছে সেভাবেই বসবাস করবেন।

তিনি আরও বলেন, দলিলপত্র, কাগজপত্র থাক বা না থাক, তারা (খাসি আদিবাসী) যেখানে যেভাবে আছেন তাদের মানবাধিকার যাতে লঙ্ঘিত না হয়, তাদের জীবন-জীবিকা যাতে বিঘ্নিত না হয়, তাদের নির্বিঘ্নে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

প্রফেসর ড. মেসবাহ কামাল বলেন, চা বাগানের মধ্যে কাউকে ঢুকতে দেয়া হয় না। তার মানে পুঞ্জিতে যারা বসবাস করছেন তারা চা বাগান হওয়ার অনেক আগে থেকেই সেখানে আছেন। বংশ পরম্পরাতে বসবাসের পরও এখন তারা নিরন্তন উচ্ছেদ আতঙ্কে রয়েছেন।

নাজমুল হক প্রধান বলেন, চা বাগানের জন্য ১০০ গাছ কাটার কথা বলে হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে আওয়াজ তুলতে হবে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »