আজ পবিত্র হজ : খুতবা দিবেন বিচারপতি শায়খ ড. হুসাইন

কাবা শরিফ

পবিত্র হজ আজ। লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভোর থেকে আরাফামুখী। লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত প্রান্তর। দুপুরের আগেই আরাফা ও পাশ্ববর্তী নির্ধারিত সীমানা কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। মুসলিম উম্মাহর বিশাল জনসমুদ্রের মহাসম্মিলনে এবারের হজের খুতবা দিবেন নতুন খতিব বিচারপতি শায়খ ড. হুসাইন আল-আশ-শায়খ।

এবার পবিত্র হজ পালনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২০ লাখ শিশু-কিশোর-যুবক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেছেন। সবাই ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশ্যে কেউ পথে কেউ ময়দানে। সৌদি আরব হজ কর্তৃপক্ষও নিয়েছে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যাতে হজ পালনকারীরা নিরাপদে সুশৃঙ্খলভাবে হজ সম্পাদন করতে পারবে।

বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহও আজ হজ পালনকারীদের সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে তাদের জন্য দোয়া কামনা করছে। যাতে হজে গমনকারীরা সুন্দর নিরাপদে সুস্থভাবে হজ সম্পাদন করতে পারে।

লাখো হাজির কাণ্ঠে একই সঙ্গীত- ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকালাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান-নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক’।

আজ হজ পালনকারীদের উদ্দেশে ঐতিহাসিক আরাফা প্রান্তরের মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা প্রদান করবেন নতুন খতিব। তিনি মদিনা সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে বিচারপতি। মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব।

নতুন খতিব বিচারপতি শায়খ ড. হুসাইন ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে হাসান ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে হুসাইন আল শেখ বনি তামিম গোত্রের শেখ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব-এর বংশধর।

হজের ঐতিহাসিক খুতবায় মুসলিম উম্মাহর দুনিয়া ও পরকালীন জীবনের কল্যাণ ও দিক-নির্দেশনা ওঠে আসবে। মুসলিম বিশ্বের চলমান সংকট ও উত্তরণের উপায় সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রসঙ্গের পাশাপাশি ধর্মীয় বিভিন্ন বিধি বিধানের আলোচনা থাকবে হজের খুতবায়।

দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ, রহমত প্রাপ্তি ও নিজেদের গোনাহ মাফের জন্য আল্লাহ তাআলার দরবারে অশ্রুসিক্ত নয়নে ফরিয়াদ জানাবে সমবেত ধর্মপ্রাণ মুসলমান। বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এক অনুপম দৃশ্যের অবতারণা হবে আজ আরাফাতের ময়দানে।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে স্থানে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন, ঠিক সেই স্থানেই নির্মিত হয়েছে মসজিদে নামিরা। আর এ মসজিদে নামিরা থেকেই হজের খুতবা প্রদান করা হবে।

আজ ৯ জিলহজ (সোমবার) সূর্যোদয়ের পরপরই যেমনি ভাবে মুসলিম উম্মাহ হাজির হবে আরাফা প্রান্তরে। ঠিক দিনভর কান্নাকাটি দোয়া-ইসতেগফারের পর সূর্যাস্তের পর আবার রওয়ানা হবে মুজদালিফায়। যেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাবে মুসলিম উম্মাহ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথভাবে হজ সম্পাদনের তাওফিক দান করুন। মুসলিম উম্মাহর গোনাহ মাফ করুন। হজে মাবরুর কবুল করুন। আমিন।