বার্তাবাংলা ডেস্ক »

ঈদ এলেই সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয় ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীদের। কিন্তু এবার চিত্রটা ভিন্ন। রোববার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মহাসড়কের কোথাও যানজটের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ঘরমুখো মানুষদের নিয়ে স্বাভাবিক গতিতেই ছুটে চলছে যানবাহনগুলো।

মহাসড়কের চন্দ্রামোড় থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত নির্মাণাধীন ৭০ কিলোমিটার ফোরলেন খুলে দেয়ায় যানবাহনগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া যানজট নিরসনে প্রায় এক হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

সূত্র জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কটি দেশের অন্যতম যানজটপ্রবণ মহাসড়ক হিসেবে পরিচিত। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন উত্তরবঙ্গসহ ২৬টি জেলার ১৫ থেকে ২০ হাজার যানবাহন চলাচল করে থাকে।

বছরের প্রায় প্রতিদিনই এই মহাসড়কটিতে কমবেশী যানজটের দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে যাত্রী ও চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে ঈদের সময় মহাসড়কটিতে যানবাহন চলাচল কয়েক গুন বেড়ে যায়। এতে যানজট চরম আকার ধারণ করতো। ভয়াবহ এই যানজটে আটকা পড়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হতো।

প্রতিবছরই দুর্ভোগের এই চিত্র পরিলক্ষিত হলেও রোববার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মহাসড়কের চেহারা ছিল একেবারেই ভিন্ন। স্বাভাবিক গতিতেই যানবাহনগুলোকে চলাচল করতে দেখা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে প্রায় ২৫ হাজার যানবাহন পারাপার হয়েছে।

এদিকে রোববার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের চাপও কয়েকগুন বৃদ্ধি পায়। যানবাহন বৃদ্ধি পেলেও কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়নি।

এছাড়া মহাসড়কের গোড়াই এলাকায় ফোর লেনের কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের কাইতল্যা নামক স্থানে ঈদকে কেন্দ্র করে গরুর হাট বসানো হয়েছে। যেটা চলবে আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত। শত শত গরু ভর্তি ট্রাক গোড়াই এলাকা দিয়ে ওই হাটে যাওয়ার কারণেও মহাসড়কের গোড়াই এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিন বছর আগে শুরু হওয়া মহাসড়কের ফোরলেনের কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ শেষ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ১৪ আগস্ট গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মহাসড়কের ২৩টি ব্রিজ উদ্বোধন করেন।

মহাসড়কের অন্যতম যানজটপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত মির্জাপুরের ধেরুয়া রেলক্রসিং এলাকা। ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য এখানে নির্মাণাধীন উড়াল সেতুর একাংশ যানবাহন চলাচলের জন্য গতকাল শনিবার থেকে খুলে দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে মির্জাপুর পোস্টকামুরী বাইপাস থেকে ওয়ার্শী হয়ে কালামপুর দিয়ে নবীনগর হয়ে যানবাহন ঢাকা ও মানিকগঞ্জ যাচ্ছে। মহাসড়কে যানবাহনের গতি থাকায় পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে সড়কে যানবাহনের সঙ্কট থাকায় শত শত যাত্রী গন্তব্যস্থলে যেতে না পেরে মহাসড়কের চন্দ্রা, গোড়াই, দেওহাটা ও মির্জাপুর এলাকায় অপেক্ষা করছেন বলে জানা গেছে।

গাজীপুরের জামগড়া এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিক আলী আজগর জানান, তিনি জামগড়া থেকে মির্জাপুর পর্যন্ত যানজটমুক্ত মহাসড়ক দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলা সদরের পোস্টকামুরী চরপাড়া নামক স্থানে দায়িত্বরত পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শংকর জানান, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের যাত্রা নিবিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য নিয়োগ করেছেন। তাছাড়া তিনি এ বিষয়ে নিয়মিত মনিটরিং করছেন বলে জানান।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুল হক জানান, মহাসড়কের চন্দ্রামোড় থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য কর্মরত রয়েছেন। মহাসড়কের গোড়াই এলাকায় সোয়া কিলোমিটার এলাকায় ফোরলেন হয়নি। ওই এলাকায় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি জানান।

মির্জাপুরের গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসি একেএম কাউসার জানান, মহাসড়কে কোথাও যানজট নেই। তবে চন্দ্রামোড়ে অনেক যাত্রী যানবাহনের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানতে পেরেছেন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »