বার্তাবাংলা ডেস্ক »

একদিন কাঠফাটা গরম তো অন্যদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৃষ্টি- এমন আবহাওয়ায় খুব সহজেই ঠান্ডা লেগে জ্বর আসতে পারে। জ্বর আসার আগে থেকেই কিছু লক্ষণ থেকে বোঝা যায় আপনি অসুস্থ হতে চলেছেন। জেনে নিন এসব লক্ষণ এবং তা সামলে নেওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায়-

১) ক্লান্তি

সাধারণত ক্লান্তি বোধ হলে আমরা নিজেকে আরও বেশি বেশি কাজ করার জন্য চাপ দিই। কিন্তু তা করা উচিৎ নয়। কারণ শরীর কোনো জীবাণুতে আক্রান্ত হলে তার প্রথম উপসর্গই হয় ক্লানি। ক্লান্তি বোধ হলে অবশ্যই রাত্রে অন্তত আট ঘণ্টা নিশ্ছিদ্র ঘুম প্রয়োজন। ঘুম কম হলে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন আপনি।

২) বন্ধ নাক

সর্দি ভালো করে জেঁকে বসার আগেই অনেকের নাক বন্ধ হয়ে যায়। তখন বেশি বেশ করে পানি পান করা উচিৎ। ঠান্ডাজ্বরের ভাইরাস নাকের ওপরে আগে আক্রমণ করে। এ সময়ে যথেষ্ট পানি পান করলে ভাইরাস সুবিধা করতে পারেন না।

৩) স্ট্রেস এড়িয়ে চলুন

স্ট্রেসের সাথে অসুস্থতার সংযোগ নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। তবে মানুষ অসুস্থ হলে সহজে স্ট্রেসে পড়ে যায় এটা সত্যি। আর স্ট্রেস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও দুর্বল করে দেয়। অফিসের বা পড়াশোনার কাজ করতে গিয়ে যদি একটুতেই স্ট্রেস অনুভব করেন আপনি, তারমানে আপনি দ্রুতই অসুস্থ হতে চলেছেন। এ সময়ে নিজেকে স্ট্রেস মোকাবেলার সময় দিন, বিশ্রাম দিন মন ও শরীরকে।

৪) গলা খুসখুস

গলা ব্যথা বা চুলকানো অচিরেই অসুস্থতার পূর্বাভাস। গলা পরিষ্কার করতে হালকা গরম লবণ পানি দিয়ে কুলকুচি বা গার্গল করলে তা কমে যায়। এক গ্লাস গরম পানিতে আধা চা চামচ লবণ দিয়ে কুলকুচি করুন। তবে অবশ্যই এই পানি গিলে ফেলবেন না।

৫) মাথা ভারী হয়ে থাকা

ঠান্ডা লাগার আগেই মাথা ধরে থাকা, মাথা ভারী হয়ে থাকার অনুভূতি হতে পারে। একে ক্লান্তি বা ঘুমের অভাব মনে করতে পারেন অনেকে। তবে তা দূর করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো গরম পানিতে গোসল করে নেওয়া। গরম পানির বাষ্প মাথা ধরা এবং নাক বন্ধ হয়ে থাকার উপসর্গ দূর করে।

৬) সাইনাসের ব্যথা

ঠান্ডা লাগার আগে অনেকেরই মুখমণ্ডল ব্যথা করতে পারে। এতে অবাক হবার কিছু নেই। কারও চোখের আশেপাশে ব্যথা করে, কারও গাল ব্যথা করে। মূলত সাইনাসের ব্যথাই অনুভব করেন তারা। এর জন্য সবচেয়ে ভালো প্রতিকার হলো গরম গরম চিকেন স্যুপ খাওয়া। এতে পিঁয়াজ ও রসুন দেওয়া হেলে আরও ভালো। চিকেন স্যুপ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে এবং সাইনাসের ব্যথা কমায়।

৭) হালকা ব্যায়াম

বুকে কফ জমে যাওয়া বা বুক ভারী মনে হওয়াটা ঠান্ডা লাগার আরেকটি পূর্বাভাস। অসুস্থ হলে ব্যায়ামের কথা ভাবতেই পারেন না অনেকে। তবে বুকে কফ জমে গেলে হালকা ব্যায়াম তা কমাতে সাহায্য করে। তা ফুসফুস থেকে জীবাণু দূর করতে উপকারী। এর জন্য হাঁটতে পারেন বা যোগব্যায়াম করতে পারেন। এর পাশাপাশি অবশ্যই বেশি করে পানি পান করুন।

৮) কাশি

অন্য কোনো উপসর্গ না থাকলেও হুট করে কাশি থেকে আপনি বুঝতে পারেন অনতিবিলম্বে জ্বর আসতে পারে। কাশি কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায়টি কী? না, কফ সিরাপ নয়। বরং ঘুমানোর সময়ে কয়েকটি বালিশ দিয়ে মাথা উঁচু রেখে ঘুমান। এতে কাশি কমবে এবং নিঃশ্বাস নেওয়াও সহজ হবে।

৯) শরীর খারাপ লাগা

শুধু ক্লান্তি বা স্ট্রেস নয়, সবকিছু মিলিয়েই শরীর খারাপ বা দুর্বল লাগতে পারে জ্বর আসার আগে। এ সময়ে ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন সি খাওয়াটা আপনার জন্য উপকারী হতে পারে।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »