বার্তাবাংলা ডেস্ক »

কৈশোর শ্রেণিকক্ষে ফিরে গেছে। এখন ঈদের ছুটিতে খেলার মাঠে কিংবা গ্রামে যাবার পথে। মাঝে হুলস্থূল হলো অনেক। কৈশোরদের মূলধন করে নিজেদের স্বার্থের ফসল ঘরে তুলতে মাঠে নেমেছিল আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারী একাধিক পক্ষ। তারাও ক্লান্ত হয়ে কিংবা ফায়দা কুড়িয়ে উঠে গেছে পথ থেকে।

রটনা-গুজব বাষ্পিত হয়ে উড়ে গেছে। ফিরে গেছি আমরাও পুরনো বৃত্তে। শিক্ষার্থীরা পথে নেমে দেখিয়েছিল কেমন সারি বেঁধে পথ চলতে হয়। নিয়ম, আইন শব্দ গুলোকে আবার মনে করিয়ে দিয়েছিল। আমরা বুক পকেটে বৈধতার সনদ নিয়ে চলতে শিখতে শুরু করেছিলাম। যাদের বৈধতার সনদ ছিলনা তারা লুকিয়ে ছিলাম পথ থেকে। প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম নিজেদের শুদ্ধ করে পথে নামার।

শিক্ষার্থীরা পথ ছেড়ে চলে যাবার পর ধুলোয় ডুবে যাওয়া আইন নিয়ে পথে নেমেছিল ট্রাফিক পুলিশ। দশদিন চলেছে ট্রাফিক সপ্তাহ। ট্রাফিক সপ্তাহ শেষে আমরা কিছু পরিসংখ্যান পেলাম। সারাদেশে পুলিশ এক লাখ আশি হাজার দুইশ ঊণপঞ্চাশটি যানবাহনের উপর ব্যবস্থা নেয়। জরিমানা আদায় করেছে সাত কোটি আট লাখ চৌদ্দ হাজার তিনশ পঁচাত্তর টাকা। মামলা করা হয়েছে চুয়াত্তর হাজার দুইশ চব্বিশ জন চালকের বিরুদ্ধে।

পাঁচ হাজার চারশ আঠারটি যানবাহন আটক করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ যে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে তা শতভাগ বিশুদ্ধ নয় বলে অভিযোগ আছে। মামলা ও জরিমানার টাকার অঙ্ক দিয়ে সাফল্য দেখানোর অভিলাষ পুলিশের থাকতেই পারে। তার শিকার নিরীহ বাহন ও চালক যে হয়নি তা বলা যাবেনা।

পাশাপাশি একথাও সত্যি, এই দৃশ্যও সত্য ট্রাফিক সপ্তাহ চলাকালীন বিএনসিসি এবং স্কাউট সদস্যরা উল্টোপথে চলা মোটরসাইকেল এবং অসচেতন ভাবে পার হওয়া পথচারীদের কেমন করে গতিরোধ করছে। ট্রাফিক পুলিশ ও স্কাউটকে সরিয়ে দিয়ে জোর করে তারা যে কোন জায়গা দিয়ে রাস্তা পারাপার হবেনই।

শিক্ষার্থীরা যখন আন্দোলনে ছিল তখনো দেখেছি, ওরা পথ থেকে সরে যাওয়া মাত্রই উল্টো যাত্রা। লেন ভেঙ্গে চলা। বেপরোয়া গতি। যেখানে সেখানে পার্কিং ও যাত্রী উঠা-নামা করানো। পথচারি সেতুর বদলে ,সড়কের যে কোন স্থান থেকে দৌঁড়ে রাস্তা পেরিয়ে যাওয়া। যেখানে তারকাঁটা বা রোড ডিভাইডার দেয়া আছে সেখান দিয়েও ঝুঁকি নিয়ে পারাপার চলেছে। এখন এই দৃশ্য এবং অভ্যাস গুলো আরো তীব্র ভাবে ফিরে এসেছে।

ভেবেছিলাম দুরন্ত কৈশোর আমাদের অভ্যাসে যে ভুল ধরিয়ে দিয়েছিল, তা থেকে নিজেদের শুধরে নেবো। শ্রদ্ধাশীল হবো আইনের প্রতি। দায়িত্বশীল হবো সড়কে। তবে সহজেই সড়কে ফিরে আসতো শৃংখলা। কিন্তু নির্দ্ধিধায় বলতে পারি আমরা শিক্ষার্থীদের দেখানো ও শেখানো নিয়ম কিছু মূহুর্তের জন্য অভিনয় করে পালন করেছি মাত্র। পরমূহুর্তেই সকলেই আমরা আগের মতোই বেপরোয়া।

কৈশোর আন্দোলন চলাকালীন এবং তারপর থেকে অদ্য, ঢাকাসহ সারা দেশে পরিবহনের বেপরোয়ো গতিতে সংযম আসেনি। ফলে একের পর এক স্কুল-কলেজছাত্রসহ সাধারণ পথচারি-যাত্রীর প্রাণ যাচ্ছেই। পরিবহন মালিক শ্রমিকদের এবং রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির পথে এবং পথের বাইরে যে তৎপরতা দৃশ্যমান, তা কেবলই টিভি ক্যামেরা শো বলা যায়।

যদি প্রকৃত অর্থেই তাদের উদ্যোগে আন্তরিকতা থাকতো তাহলে লক্কর ঝক্কর বাস পথে থাকতোনা। বাসের গতি হতো সংযত। পথ হয়ে উঠতোনা বিশৃংখল। আর এই যে আমরা? যারা যাত্রী ও পথচারী, তারা কতোটা সভ্য হলাম? এক রত্তিও নয়। বরং আমাদের বেহায়াপনা আরো রঙিন দৃশ্যমান হচ্ছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »