বার্তাবাংলা ডেস্ক »

ব্যাটিংটা ভালোই করেন ক্রিস ওকস। প্রথম শ্রেণিতে সেঞ্চুরি আছে ৯টি। আজকের আগে টেস্টে ৪টি ফিফটি ছিল। গড়টাও একসময়কার বাংলাদেশ দলের টপ অর্ডারের মতো। তবু এমন কিছু করতে পারবেন, সেটা হয়তো আশা করেননি ওকস। ওকসের দিনে ৬ উইকেটে ৩৫৭ রানে লর্ডস টেস্টের তৃতীয় দিন শেষ করেছে ইংল্যান্ড। ভারতের চেয়ে ২৫০ রানে এগিয়ে আছে তারা।

 

লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম লেখানোটা এর আগেই সেরে নিয়েছেন ওকস। ক্যারিয়ারে যে দুবার ৫ উইকেট পেয়েছেন, সেগুলো পাকিস্তানের বিপক্ষে এক টেস্টে তুলে নিয়েছেন, এই লর্ডসেই। তবু আজকের এ ঘটনাকেই হয়তো এগিয়ে রাখবেন এই পেস বোলার। এবার যে নাম লিখিয়েছেন ব্যাটিংয়ে!

 

সেটাও এমন এক উইকেটে, যেখানে টিকে থাকাই কঠিন মনে হচ্ছিল। বৃষ্টিতে প্রথম দিন ভেসে গেছে। দ্বিতীয় দিনে যা একটুখানি খেলা হয়েছে, তাতেই ভারত অলআউট ১০৭ রানে। ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডও যে খুব একটা ভালো অবস্থাতে ছিল তা নয়। ইতিবাচক শুরুর পরও ভারতীয় পেসারদের সামনে নতজানু হয়ে পড়েছিল ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। চারজন ব্যাটসম্যানই বলের লাইন মিস করে এলবিডব্লু! প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে শুধু অ্যালিস্টার কুকই পায়ে বল লাগিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেননি। তাঁকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন ইশান্ত শর্মা, রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে আনপ্লেয়েবল এক বলে।

ওকস যখন উইকেটে এসেছেন, ইংল্যান্ডের লিড ততক্ষণে ২৪। শুনতে ভালো ঠেকলেও বাস্তবতা হলো দলের স্কোর তখন ৫ উইকেটে মাত্র ১৩১। ওকস নামার পরই প্রতি আক্রমণের শুরু ইংল্যান্ডের। এর আগেই এমন উইকেটে আক্রমণই যে সেরা পন্থা, সেটা বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন জস বাটলার। কিন্তু তাঁর ২২ বলের ইনিংস ২৪ রান যোগ করেই থেমে গেছে। ইংল্যান্ড দলের দায়িত্বও তাই ওকসকে নিতে হয়েছে বেয়ারস্টোকে সঙ্গী করে।

সিনিয়র পার্টনার, তাই প্রথমে দায়িত্বটা জনি বেয়ারস্টোর কাছেই ছিল। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই এগিয়ে এসেছেন বেয়ারস্টো। প্রায় হাত ধরাধরি করে দুজনের রান এগোলেও ফিফটিটাও তাই আগেই ছুঁয়েছেন বেয়ারস্টো। রান তোলার গতিতে যদিও এগিয়েছিলেন অলরাউন্ডার ওকস। এ দুজনের নির্ভার ব্যাটিং ভারতীয় বোলিংকে ক্রমে নির্বিষ করে তুলেছে। টেস্টে ৪–এর ওপর রানরেট, তাই পুরো দিনই ধরে রাখতে পেরেছে ইংল্যান্ড। দুজনে মিলেই লিডটা ২০০ ছাড়িয়ে নিয়েছেন শেষ সেশনে।

এর আগেই এসেছে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ৯৭ রানে থাকা ওকস হার্দিক পান্ডিয়ার একটি বল কাউ কর্নারে পাঠিয়ে দৌড়ে ৩ রান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তখন ঝুঁকিপূর্ণই মনে হচ্ছিল। কিন্তু বল ধরতে যাওয়া রবিচন্দ্রণ অশ্বিন বল ধরে পিছলে পড়লে দুশ্চিন্তা দূর হয়। আর সে সঙ্গে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটাও নিশ্চিত হয় ওকসের।
একটু পরই অবশ্য স্বস্তি পেয়েছে ভারত। ষষ্ঠ উইকেট জুটিটা দুই শ ছোঁয়ার (১৮৯) আগেই থেমে গেছে। নব্বইয়ের ঘরে এসে ধৈর্য হারালেন বেয়ারস্টো। পান্ডিয়াকে ড্রাইভ করতে গিয়ে দীনেশ কার্তিককে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন (৯৩)। দিনের বাকি সময়ে ভারতকে আর হাসার সুযোগ দেননি ওকস। আলোক স্বল্পতায় যখন দিনের খেলা শেষ হচ্ছে, ততক্ষণে তাঁর নামের পাশে ১২০ রান। সেটাও মাত্র ১৫৯ বলে। সঙ্গী স্যাম ক্যারেন অপরাজিত আছেন ২২ রানে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »