বার্তাবাংলা ডেস্ক »

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে জ্বালানি বিভাগ আজ রাজধানীতে একটি সেমিনারের আয়োজন করেছে। জ্বালানি ব্যবহারে জনগণকে সচেতন করতে ২০১০ সাল থেকে সরকারিভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস পালন করা হচ্ছে।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট ব্রিটিশ তেল কোম্পানি ‘শেল অয়েল’ এর ৫টি গ্যাসক্ষেত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানায় কিনে নেয়ার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে দেশজ জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতির সূচনা হয়।‘

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেয়ার পর থেকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী জ্বালানির উৎপাদক হিসেবে এ গ্যাসক্ষেত্রগুলো আজ পর্যন্ত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বঙ্গবন্ধুর কৌশলগত ও রাষ্ট্রনায়কোচিত সিদ্ধান্তের ফলশ্রুতিতেই আজ জাতি স্বল্পমূল্যে দেশীয় গ্যাস ব্যবহার করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি দেশে প্রাকৃতিক জ্বালানি মজুদ বৃদ্ধির জন্য অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার এবং উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ‘২০০৯ সালের জানুয়ারিতে দৈনিক গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট, যা বর্তমানে ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। এতে দেশে শিল্পায়ন দ্রুততর হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজ প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার ব্যবহারের পাশাপাশি এলএনজি আমদানি করে গ্যাসের ঘাটতি পূরণের পদক্ষেপ নিয়েছি। ২০৪১ সাল পর্যন্ত গ্যাসের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে স্থল ও ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ২০২১ সালের মধ্যে ১০৮টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনাও হাতে নেয়া হয়েছে।’

জ্বালানি বিভাগের তথ্য মতে, দেশে আবিষ্কৃত ২৬টি গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাসের মজুত ২৭ দশমিক ১২ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের (টিসিএফ) মধ্যে ১৪ টিসিএফ গ্যাস ব্যবহৃত হয়েছে। বাকি মজুত আগামী আট থেকে ১০ বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »