বার্তাবাংলা ডেস্ক »

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্ বলেছেন, সরকারের নীতি হচ্ছে শস্যবীমাতে সরকার যাবে না। তারপরও জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতির খসড়াতে এটি সংযোজন করা হয়েছে। এটা সরকারের নীতির লঙ্ঘন। এটা যারা করেছেন তাদের শাস্তি হওয়া দরকার।

তিনি আরও বলেন, শস্যবীমা সংক্রান্ত কোনো সভায় কেউ যাবে না, কোনো বক্তব্য দেবে না এবং এ বিষয়ে কোনো আলোচনা উঠে আসলে বলতে হবে সরকারের অবস্থান শস্যবীমায় নেই।

বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) অডিটরিয়ামে ‘জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ২০১৮ চূড়ান্তকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্ বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভায় ‘জাতীয় কৃষি নীতি ২০১৮’ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের কৃষি যাতে লাভবান হয়, সে কথা মাথায় রেখে এই নীতির আলোকে ‘জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ২০১৮’ চূড়ান্ত করতে হবে। শস্য নিবিড়তা, মাটির স্বাস্থ্য, উদ্ভাবিত প্রযুক্তির দুর্বলতা, জলবায়ু পরিবর্তন, ফসলের সংগ্রহোত্তর অপচয়সহ কৃষির চ্যালেঞ্জগুলো বিবেচনা নিয়ে জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি চূড়ান্ত করতে হবে। নীতি চূড়ান্তকরণের ক্ষেত্রে দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের চ্যলেঞ্জও বিবেচনায় রাখতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মীদের উদ্দেশ্যে সিনিয়র সচিব বলেন, চাষীদের লাভের কথা মাথায় রেখে তাদের ফসল চাষের উপদেশ দিতে হবে। কৃষি পণ্যের বাজার নিশ্চিত না হলে উপদেশ দিয়ে তাদের ক্ষতি ও হয়রানির মুখে ফেলা ঠিক হবে না। ধান উৎপাদনে চতুর্থ, সবজিতে তৃতীয়, আমে উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম এসব বক্তব্য দিয়ে আত্মতুষ্টিতে থেকে লাভ নেই।
তিনি বলেন, আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। দানাদার ফসলের মধ্যে ধান উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও আমরা গম আমদানি করছি। আবার বন্যা ও বিভিন্ন দৈবদুর্বিপাকের সময় কৃষি ভার্নারেবল অবস্থায় চলে যায়। এটা আমাদের স্মরণ করতে হবে কৃষি নীতি প্রণয়নের সময়। আমাদের এখন পুষ্টিসম্মত খাদ্য দরকার। ধান উৎপাদনের পাশাপাশি ডাল, তেল, ফল, সবজি প্রভৃতি ফসলের উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দ্রুত মাঠে নিয়ে যেতে হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এ কর্মশালার আয়োজন করে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ মহসীনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতির খসড়া উপস্থাপন করেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেম। নির্ধারিত আলোচকের বক্তব্য দেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মো. সেকেন্দার আলী ও কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. ওয়ায়েস কবীর। স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ড. মো. আবদুল মুঈদ। বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. কবির ইকরামুল হকসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা ও কৃষক প্রতিনিধিরা এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »