বার্তাবাংলা ডেস্ক »

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পদ্মা নদীতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধও।

নদী ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদী তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। এলাকার অনেকে বাঁশ দিয়ে পাইলিং করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ যাবৎ পদ্মা নদীতে পানি বাড়ছে। এতে কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দী গ্রামের পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে বেশ কিছু বাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।

এদিকে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পানি যেভাবে বাড়ছে তাতে সদ্য নির্মাণ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধের দুই মুখ ঝুঁকিতে রয়েছে। বাঁধ নির্মাণের সময় এলাকায় কিছু মানুষ জমি দেয়নি। ফলে বাঁধ পুরোপুরি শেষ করা যায়নি। সেসব স্থানেও ভাঙতে পারে।

পাউবো সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের দিকে পদ্মা নদী ভেঙে কুঠিবাড়ির দিকে আসতে শুরু করে। এরপর থেকে পাউবো কুঠিবাড়িসহ কয়া ও শিলাইদহ ইউনিয়নের গ্রাম রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করে। পরে চলতি বছর ১৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজ বাস্তবায়ন করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর থেকে শুরু করে শিলাইদহ খেয়াঘাট পর্যন্ত এলাকার দূরত্ব প্রায় ৫ হাজার ২২০ মিটার। এর মধ্যে ওই ইউনিয়নের সুলতানপুর, শ্রীকোল, কোমরকান্দী ও শিলাইদহ গ্রাম রয়েছে। সুলতানপুর থেকে শ্রীকোল পর্যন্ত ২ হাজার ৭২০ মিটার ও কোমরকান্দী পূর্বপাড়া থেকে শিলাইদহ খেয়াঘাট পর্যন্ত এক হাজার মিটার বাঁধের কাজ হয়। এতে ব্যয় হয় ১৪৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদের মধ্যে কাজ করতে না পারায় ২২ কোটি টাকা ফেরত যায়। কিন্তু সেসময় বাঁধের নকশায় কোমরকান্দী পশ্চিমপাড়া থেকে পূর্বপাড়া পর্যন্ত ১ হাজার ৫৩০ মিটার এলাকা ছিল না। এখন বন্যা দেখা দেয়ায় এ এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে কুঠিবাড়ি রক্ষা প্রকল্পের যে বাঁধ রয়েছে তার একটি অংশের সামনের দিকে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেখানে ব্লক বসানোর জন্য যে মাটি তোলা হয়েছে, তারও বেশির ভাগ অংশ বিলীন হয়ে গেছে। পানি বাড়লে এ অংশের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কোমরকান্দী পূর্বপাড়া এলাকার মজিবর রহমান বলেন,‘বাঁধের মাথায় আমার বাড়ি। ভাঙনে অসুবিধা হচ্ছে। ভিটা ছাড়া কোনো জমি নেই।’

আবদুল বারী জানান, ঢেউয়ে নদী পাড়ের মাটি সরে যাচ্ছে। সবাই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তাই সরকারের কাছে দাবি, যেন দ্রুত বাঁধ নির্মাণ করে দেয়।

ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেডের শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের সমন্বয়ক মোফাজ্জেল হক বলেন, যে অংশে বাঁধ নেই সেখানে ভাঙনের ফলে সমস্যা হতে পারে। এজন্য ওই অংশটুকুতেও বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফউজ্জামান খান বলেন, এ মুহূর্তে কোনো প্রকল্প নেই। যে অংশে বাঁধ নেই সেখানে ভাঙছে। আরও দেড় কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা গেলে গ্রামসহ কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিমুক্ত থাকতো।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »