বার্তাবাংলা ডেস্ক »

চিপস খাওয়ার বায়না করেছিল তিন বছরের শিশুটি। প্রথমে রাজি না হলেও পরে তা কিনে দিয়ে মা বলেছিলেন, বাড়ি গিয়ে ভাত খাবে। আর চিপস বিকালে খাবে। কথা শুনে মায়ের সঙ্গেই অটোয় উঠেছিল রাজদীপ সর্দার নামের ছোট্ট ছেলেটি।

হাতে ধরা ছিল চিপসের প্যাকেট। কিন্তু বাড়ির কিছুটা আগেই রাস্তার ওপরে ছিটকে পড়ে সেই প্যাকেট। পায়ে থাকা ছোট্ট কমলা-সবুজ রঙের জুতাটাও পড়ে রইল রাস্তার ধারে। আচমকাই ব্রেক কষায় অটো থেকে ছিটকে রাস্তায় আছাড় খেয়ে পড়ে মৃত্যু হয় শিশুটির।

মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের বরাহ নগরের অক্ষয়কুমার মুখার্জি রোডের বিবেক মোড়ে। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে অটোচালক ভোলা দত্তকে। শিশুটির মায়ের অভিযোগ, অটোর বেপরোয়া গতি এবং আচমকা প্রচণ্ড জোরে ব্রেক কষার জন্যই এমন ঘটনা ঘটেছে। এমনকি ছেলে পড়ে যাওয়ার পরে তাকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে না গিয়ে উল্টো পালিয়ে যায় অটোচালক। শিশুটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও গাফিলতির কারণে মৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

ছেলের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন রিঙ্কি। তিনি বলেন, দুপুর ১২টার দিকে ছেলেকে নিয়ে অটোতে উঠেছিলেন। পেছনের সিটে বাঁদিকে মায়ের সঙ্গে বসেছিল রাজদীপ। প্রথমে মায়ের কোলে বসে থাকলেও ছটফটে স্বভাবের ছেলেটি একটু পরে সিট থেকে নেমে চালকের আসনের পিছনের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে পড়ে। অক্ষয়কুমার মুখার্জি রোডের ৬ নম্বর বাঁকটি নেওয়ার পরেই আচমকা ব্রেক কষে অটোটি। আর তাতেই অটো থেকে রাস্তায় গিয়ে পড়ে শিশুটি।

রিঙ্কি জানান, অটোটি খানিকটা এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালে তিনি নেমে ছুটে এসে দেখেন, রাস্তায় পড়ে কাঁদছে রাজদীপ। শিশুর চিৎকারে জড়ো হয়ে যান পথচারীরা। স্থানীয় এক যুবক শিশুটিকে কোলে তুলে নেন। তখনও শিশুটি কাঁদছিল। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

রাজদীপকে বরাহনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে চিকিৎসকরা দ্রুত ব্যবস্থা নিলেও মিনিট দশেকের মধ্যেই সে মারা যায়। হাসপাতালের সুপার জয়ব্রতী মুখোপাধ্যায় বলেন, শিশুটির শরীরের কোথাও কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। মনে হচ্ছে মাথার পিছনে লেগে ভিতরে রক্তক্ষরণ হয়ে কিংবা ঘাড়ের কাছে শিরদাঁড়ায় আঘাত লেগেই মৃত্যু হয়েছে তার।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »