বার্তাবাংলা ডেস্ক »

প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় টানা পঞ্চম দিনের মতো সারাদেশে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। বেপরোয়া চালকের ফাঁসি, নিরাপদ সড়ক চলাচল ব্যবস্থাসহ ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচির খবর বিশ্ব গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে বলছে, দুই শিক্ষার্থীর ওপর গাড়ি চালিয়ে দেয়া চালকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রাস্তায় টানা বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। দেশটির বিমানবন্দর সড়কে রোববার বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটে। বিক্ষোভকারীরা সড়কে নিরাপত্তা ও হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করছেন।

রাজধানীর প্রধান প্রধান পয়েন্টে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় থমকে গেছে। এরমাঝে বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ করে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এক সংবাদ সম্মেলনে।

তিনি বলেছেন, বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের কাছে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া পৌঁছেছে। আমরা তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছি। তিনি অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন।

চীনের সরকারি সংবাদসংস্থা সিনহুয়া বলছে, চালকের বেপরোয়া গাড়ির নিচে চাপা পড়ে দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় হাজার হাজার শিক্ষার্থী ঢাকার রাস্তায় নেমেছেন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত তিনদিনের মতো তারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে।

টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা ন্যায় বিচারের দাবিতে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস/ আমরা ন্যায় বিচার চাই’ স্লোগান দিচ্ছেন।

এর আগে রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে মহাসড়কের পাশে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর বাস চালিয়ে দেয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত ও আরো ৯জন আহত হয়।

বেপরোয়া বাস চালানোর দায়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ইতোমধ্যে দুই বাসের চালককে গ্রেফতার করেছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, টানা বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৩০৯ যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে; এসবের অধিকাংশই বাস।

ভয়েস অব অামেরিকার এক খবরে বলা হয়েছে, ছাত্র বিক্ষোভে রাজধানী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বাস চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদ জানাতেই ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসে। অন্তত ২০টি পয়েন্টে ছাত্ররা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এ সময় দু’জন মন্ত্রী তোপের মুখে পড়েন।

বিক্ষোভের আগাম খবরে মঙ্গলবার অঘোষিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতেও কোন কাজ হয়নি। ছাত্রদের অভিভাবকরাও বিক্ষোভে যোগ দেন। ছাত্র বিক্ষোভ হয়েছে চট্টগ্রাম, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, ময়মনসিংহ ও বরিশালে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিন বলছে, বাস দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জেরে অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর। প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে ঢাকার রাজপথে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকার শাহবাগ, ধানমণ্ডি, সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, বনশ্রী, রামপুরা, খিলক্ষেত, ভাটারা, মিরপুর এলাকায়।

পশ্চিমবঙ্গের বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার বলছে, ঢাকার রাস্তায় দল বেধে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। অনেকের পরনে স্কুলের ইউনিফর্ম। সকলের পিঠে স্কুলের ব্যাগ। দিনভর এই খুদেদের কাজকর্মে অস্তব্যস্ত হয়ে পড়ল ঢাকার জনজীবন।

ব্যস্ত রাজধানীর অবাধ্য ট্রাফিক ব্যবস্থাকে বশে আনতে রাস্তায় নেমেছে স্কুলছাত্ররা। মন্ত্রীর গাড়ি উল্টোপথে আসায় আটকে ঘুরিয়ে দিয়েছে তারা। লাইসেন্স না-থাকায় পুলিশের গাড়িও থামিয়ে দিয়েছে। কাগজপত্র পরীক্ষা করে সন্তুষ্ট হতে না-পেরে চাবি কেড়ে নিয়েছে বেশ কিছু চালকের। চার দিন ধরে এই অবস্থা চলতে থাকায় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।

ফরাসী সংবাদমাধ্যম এএফপির বরাত দিয়ে সিঙ্গাপুরের ইংরেজি দৈনিক স্ট্রেইট টাইমস বলছে, দ্রুতগতির একটি বাসের নিচে চাপা পড়ে দুই শিক্ষার্থীরা প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। রাস্তা অবরোধ করে নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা বিক্ষোভ করছে। পুলিশের লাঠিচার্জ এড়াতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ গুটিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »