রিয়াদে প্রবাসীর সন্তানদের স্কুলে ব্যাপক দুর্নীতি

সৌদি

প্রবাসী বাংলাদেশি সন্তানদের লেখাপড়ার সুব্যবস্থার কথা চিন্তা করে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের রিয়াদ দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে ২টি স্কুল। বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ বাংলা শাখা ও ইংলিশ শাখা। আর এসব স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতির নানা অভিযোগ।

রাষ্ট্রদূত বলেন, স্কুলে এখন প্রাণ নেই, শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই স্কুলগুলো টিকে আছে। এর মধ্যে ইংলিশ স্কুলের দুর্নীতি হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ। অতীতে দুই স্কুলেরই পরিচালনা পর্ষদ ব্যাপক দুর্নীতি করেছে।

গাড়ি-বাড়ি, খাবার, শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে। স্কুলে বিশাল মাঠ থাকা সত্ত্বেও ফাইভস্টার হোটেলে অনুষ্ঠান করে ডাবল বিল বানিয়ে স্কুলের ক্যাশ খালি করার মতো দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ।

সম্প্রতি রিয়াদ প্রেস উইংয়ের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্কুলের দুর্নীতির এসব বিষয় উঠে আসে।

দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে থাকা সত্ত্বেও স্কুলগুলোই অভিভাকদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে আসত পরিচালনা পর্ষদ। যারা এক কিংবা দুই বছর স্কুল পরিচালনা করতেন।

যারা একবার এ পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব পান তারা দুর্নীতির স্বাদ পেয়ে গেলে দায়িত্ব আর ছাড়তে চান না। অন্যদিকে নতুন দায়িত্ব নেয়ার জন্য অনেকে উঠে পড়ে লাগেন।

এসব দুর্নীতির বিষয়ে রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেন সাংবাদিকরা এসব তথ্য তুলে ধরেনি। জবাবেপ্রতিনিধি , ইংলিশ স্কুলে সাংবাদিকদের ফোন ধরা হয় না। এমনকি কোনো জাতীয় অনুষ্ঠান কিংবা কোনো আয়োজনে সাংবাদিকদের ডাকা হয় না বলেও অভিযোগ আনা হয়।

এসব দুর্নীতির বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ দূতাবাস নেবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে সরিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে যাচ্ছি। আমার মেয়াদকালে চেষ্টা করছি অন্তত প্রবাসীর সন্তানেরা যেন বিদেশের মাটিতে ভালোভাবে লেখাপড়া করতে পারে।

এছাড়া এসব দুর্নীতির বিষয়ে আরও ভালোভাবে তদন্ত চলছে বলেও জানান রাষ্ট্রদূত। রিয়াদের এ স্কুল ভালোভাবে পরিচালনা করতে যা যা করা প্রয়োজন তাই করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গোলাম মসীহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন কোনোভাবে যেন স্কুল বন্ধ না হয় সে বিষয়ে নজর রাখতে। শেখ হাসিনার কথা মোতাবেক স্কুল দুর্নীতিমুক্ত রাখায় আমাদের কাজ।

অন্যদিকে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রায় এক বছর পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বে আছেন ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান আবুল বাসার নুরুজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যরা