বার্তাবাংলা ডেস্ক »

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মাতৃদুগ্ধ পান শিশুদের পুষ্টিপূরণ এবং সম্মিলিত শারীরিক বৃদ্ধি ও বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটায়। তিনি বলেন, একটি সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার বৃদ্ধি এবং মাতৃ ও শিশু পুষ্টি উন্নয়নের কার্যক্রম টেকসই করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ বুধবার (১ আগস্ট) ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের এবারের প্রতিপাদ্য ‘মায়ের দুধ পান : সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ১ আগস্ট ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ’-২০১৮’ পালন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। প্রতি জেলায় একজন করে পুষ্টিবিদ নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি উপজেলায় একজন করে পুষ্টিবিদ নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ৯৯৭টি সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবাদান কেন্দ্রে শিশুবান্ধব হাসপাতাল করার প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। এইচপিএনএসপি ও দ্বিতীয় জাতীয় পুষ্টি কর্ম পরিকল্পনার আওতায় মাতৃ ও শিশু পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ এছাড়া গুড়া দুধ ও কৌটাজাত শিশু খাদ্যের ব্যবহারকে সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে আনতে ‘মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য ও তা ব্যবহারের সরঞ্জামাদি (বিপণন) আইন, ২০১৩’ ও বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সরকার মাতৃত্বকালীন ছুটি বেতনসহ ৬ মাসে উন্নীত করেছে। সরকারি ও বেসরকারি অফিসে ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন করেছে। কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল থেকে কর্মজীবী মায়েদের ভাতা দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে ওয়ার্ল্ড ব্রেস্টফিডিং ট্রেন্ডস ইনেশিয়েটিভ (ডব্লিউবিটিআই) ২০১৫ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ১৫২টি দেশের মধ্যে তৃতীয় স্থান এবং ইন্টারন্যাশনাল বেবি ফুড এ্যাকশন নেটওয়ার্ক (আইবিএফএএন) ২০১৮ এর রিপোর্ট ‘স্টেট অব দ্য কোড নাই কান্ট্রি’ অনুযায়ী আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে।’

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ মাতৃ ও শিশু পুষ্টি বিষয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্বস্তরের শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর অগ্রগতির ধারাকে জোরদার করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, জাতীয় পুষ্টিসেবা ও বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনসহ সকল সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ’-২০১৮ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »