বার্তাবাংলা ডেস্ক »

ছাত্রনেতাদের সঙ্গে মধুর সম্পর্কে বিভোর ছিলেন অধ্যক্ষ। ছাত্রনেতা ও শিক্ষকদের একটি অংশ নিয়ে গড়ে তোলেন আলাদা বলয়। নিজেকে করেছেন নিয়মের বেড়াজাল ছিন্ন। কিন্তু বিধিবাম, সেই সখ্যতার ছাত্রনেতারাই আনলেন অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।

নরসিংদী সরকারি কলেজে এ ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রনেতারা অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ১৮টি অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাদের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, আমি কোনো অনিয়ম করিনি। ছাত্রনেতাদের চাহিদা মেঠাতে কিছু স্থানে এদিক-সেদিক করা হয়েছে।

নরসিংদী জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ নরসিংদী সরকারি কলেজ। শুধু জেলার নয় বিভিন্ন জেলার ২০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছে কলেজটিতে। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটি থেকে ২ হাজার পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৬৭৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২৪ জন। অথচ ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী এসএসসিতে জিপিএ-৫ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল।

জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের ফলাফল বিপর্যয়ে হতাশ কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন সমাজ। এই ফলাফল খারাপের কারণ বিশ্লেষণ করে গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মানসুর রহমান।

তিনি লিখেছেন, অধ্যক্ষের অসচেতনতা, শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সপ্তাহে মাত্র দু’একদিন কলেজে উপস্থিত হওয়া, ঢাকা থেকে আসা শিক্ষকরা ১১টার ট্রেনে কলেজে এসে ১টার ট্রেনে চলে যাওয়ার প্রবণতা, প্রাণীবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের সপ্তাহের ৭দিনই কলেজে না আসা, শিক্ষকদের বিভিন্ন পরীক্ষার বিল, ভর্তিও টাকা বণ্টন নিয়ে ব্যতিব্যস্ত সময় পার করা, শ্রেণিকক্ষের আসবাবপত্র মেরামত কাজে অনিয়ম, কলেজের গাড়ি মেরামত ও একই বাগান বারবার বিল বানানো এবং রাসায়নিক দ্রব্য, পুকুড় পাড় পরিষ্কার, লাইব্রেরিতে একই বই বার বার কেনায় ব্যস্ত থাকাকে দায়ী করা হয়েছে। অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহানারা বেগম ও ক্যাশিয়ার মামুনের বিরুদ্ধে এমন ১৮টি বিষয়ে অভিযোগ এনে চলতি বছর কলেজ থেকে কমপক্ষে এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

একইভাবে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আলাদাভাবে স্ট্যাটাস ও শেয়ার দিয়েছেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও নরসিংদী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মাহমুদুল হাসান শামীম নেওয়াজ, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কাজী মেহেদী হাসান ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শিব্বির আহমেদ মোল্লা শিবলী প্রমুখ।

মঙ্গলবার সকালে কলেজের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সভা করেছেন সাধারণ ছাত্র ঐক্য পরিষদ। সংগঠনের আহ্বায়ক জুবায়ের হিমেলের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, গণিত বিভাগ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি কৌশিক বিল্লাল ও আবদুর রহমান রনি প্রমুখ।

সভায় বক্তারা কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে বলেছেন, কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তাদের অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা প্রাণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে।

কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মানসুর রহমান বলেন, কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে ছাত্রলীগের কখনো সখ্যতা ছিল না। তার যোগদানের পরই আমরা আন্দোলন করেছিলাম। অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে আজ কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এখন ওনি ওনার অপকর্মের দায় অপরের কাঁধে চাপাতে চাচ্ছে। সাবেক ছাত্র হিসেবে আমরা মনে করি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা উচিত।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ছাত্রনেতাদের সঙ্গে সব সময় আমি ভালো সম্পর্ক রেখে চলেছি। হঠাৎ করে ছাত্রনেতারা কেন আমার বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগ আনছেন তা আমার বোধগম্য নয়। আমি গত দুইদিন ধরে ছাত্রলীগের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের আসতে বললেও তারা আসেনি। আমরা সরকারি বিধি মোতাবেক চলি। ছাত্রনেতাদের চাহিদা মেঠাতেই কিছু স্থানে এদিক-সেদিক করা হয়েছে। এর মধ্যে কোনো ভুল-ক্রুটি হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আমি তার দায় নেব।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »