বার্তাবাংলা ডেস্ক »

বিভিন্ন উপায়ে চার হাজার কোটি টাকা পাচার হওয়ার সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন বাংলাদশে ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। এ সময় ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান, এস এম মনিরুজ্জামা, আহমেদ জামাল, বাংলাদেশ ব্যাংকের চেইঞ্জ ম্যানেজমেন্ট পরামর্শক আল্লা মালিক কাজমী, ব্যাংকিং রিফর্ম অ্যাডভাইজার এস কে সুর চৌধুরী, প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. ফয়সল আহমেদ, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মো. আখতারুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আমদানির নামে অর্থ পাচার হচ্ছে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান বলেন,
চার হাজার কোটি টাকা ওপরে অর্থপাচার-সংক্রান্ত অনিয়ম পাওয়া গেছে। এটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে নথি পাঠানো হয়েছে। তারা পুনরায় অনুসন্ধান করছে। এরপর আইন অনুযয়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, অর্থপাচারে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যথাযথ তদারকির মাধ্যমে এটি দেখা হচ্ছে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, ‘বড় একটি প্রভাবশালী গ্রুপের আমদানি পণ্য দেশে না আসায় একটি ব্যাংকে জরিমানা করা হয়েছিল। চাপে পড়ে তা মাফ করা হয়েছে। এভাবেই তো অর্থ পাচার হচ্ছে?

এর জবাবে ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল বলেন, ‘পণ্য দেশে আসা নয়, জরিমানা করা হয়েছিল সময়মতো আমদানি নথি জমা না দেয়ায়।’

এ সময় গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘ব্যাংকটি জরিমানা মওকুফের জন্য আবেদন করেছে। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিষয়টি দেখবে।’

ব্যাংকগুলোর ছয়-নয় সুদহার বাস্তবায়ন নজরদারিতে আছে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলো কী হারে আমানত সংগ্রহ করছে এবং ঋণ কী হারে দিচ্ছে, তা নজরদারির মধ্যে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় এবার সংযত মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ জোগান যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে ডিসেম্বর-২০১৮ পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ। সরকারি ঋণের প্রাক্কলন করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »