বার্তাবাংলা ডেস্ক »

ববিতাচলচ্চিত্রে ববিতার শুরুটা হয়েছিল শিশুশিল্পী হিসেবে—যদিও সেই ছবিটি এখনো মুক্তি পায়নি। তাঁর দ্বিতীয় ছবির কাজও মাঝপথে এসে থেমে যায়। এরপর রাজ্জাক ও ববিতাকে নিয়ে জহির রায়হান তৈরি করেন চলচ্চিত্র ‘শেষ পর্যন্ত’। এটিই ছিল তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র। এরপর থেকেই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এ নক্ষত্রের উত্থান। এখন আর চলচ্চিত্রে কাজ না করলেও তাঁর অভিনয়গুণের আলোয় উজ্জ্বল চলচ্চিত্রাঙ্গন। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের খ্যাতনামা অভিনেত্রী ববিতার সোমবার জন্মদিন। এই মুহূর্তে কানাডার ওয়াটারলুতে ছেলে অনিকের সঙ্গে আছেন তিনি। কানাডার স্থানীয় সময় সকাল নয়টায় কথা বলেন তিনি। জন্মদিন পালন ও চলচ্চিত্র নিয়ে কথা হলো তাঁর সঙ্গে

ধন্যবাদ।পাঠকদের জন্য আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা ও দোয়া।

কানাডায় জন্মদিনের সকালটা কেমন কাটল?
ছেলে অনিকের ডাকে সকালে ঘুম ভেঙেছে। আমাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। এরপর অনিক অফিসে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যাওয়ার আগে বলে গেছে, ‘মা, তুমি রেডি থেকো, আমি অফিস থেকে ফিরেই তোমাকে নিয়ে ঘুরতে বের হব।’ এদিকে রাত থেকেই ঢাকা, ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়ায় আমার ভাই ও আত্মীয়স্বজনদের যাঁরাই থাকেন, সবাই এসএমএস করে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন।

 

জন্মদিনে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে?
ছেলে অফিস থেকে এসেই আমাকে খাওয়াতে নিয়ে যাবে। সে বলেছে, বিশেষ ডিনারে নিয়ে যাবে। এরপর মা-ছেলে দুজনই ঘুরব। আশপাশে দেখব, এই আরকি।

গতবারের জন্মদিনে তো আপনি ঢাকায় ছিলেন মনে হয়?
হ্যাঁ। গত বছর ছেলে আমাকে খুব মিস করেছিল। এবার মাকে পেয়ে সে খুব খুশি। আমি দেশে থাকলে ওকে মিস করি, আর ও এখানে থাকলে আমাকে মিস করে। এবার আরেকটু ভালো লাগছে, সামনে কোরবানির ঈদটা মা-ছেলে মিলে করতে পারব। ঈদের পর ট্রেনে চড়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাব। সেখানে সাত-আট দিন শুধুই ঘুরব। আমি তো ‘ডিসট্রেস চিলড্রেন ইনফ্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল’–এর শুভেচ্ছাদূত। এবারের জন্মদিনে ঢাকায় থাকলে এই সংগঠনের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা আমার বাসায় আসত। প্রত্যেক জন্মদিন ও ঈদে আমাকে ঘিরে তাঁরা নানা আয়োজন করে। এবার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মিস করেছি।

জন্মদিনে নিজের মধ্যে কী উপলব্ধি হয়?
তেমন কিছুই না। আমার জন্য সৃষ্টিকর্তা যে বয়সটা নির্ধারণ করেছেন, তা থেকে একটি বছর কেটে গেল। এটা মনে করি আর হাসতে থাকি। বাস্তব তো জন্মদিন এলেই জীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে ফেলছি, এরপরও আমরা উদ্‌যাপন করি।

জীবনটাকে কীভাবে দেখেন?
সৃষ্টিকর্তা প্রতিটা মানুষকে কোনো না কোনো যোগ্যতা দিয়েছেন। সময় থাকতে সাদামাটা জীবনে তা সদ্ব্যবহার করা উচিত। জীবনটা সাদামাটা না করে এমন রঙিন করা উচিত। এমন কিছু কর্ম করে যাওয়া উচিত, যার মাধ্যমে মানুষ তাকে মনে রাখে। আমিও চেষ্টা করেছি, এমন কিছু কর্ম রেখে যেতে, যার কারণে আমাকে মানুষ মনে রাখবেন। জানি না কতটুকু কী করতে পেরেছি।

চলচ্চিত্রের মানুষদের মধ্যে অনেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নিশ্চয়। কোন বার্তাটা পড়ে খুশি হয়েছেন বেশি।
ভালোবেসে আমাকে অনেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সবার মধ্যে রিয়াজের শুভেচ্ছাবার্তা পড়ে বেশি খুশি হয়েছি। আমাকে নিয়ে খুব সুন্দর কিছু কথা লিখে এসএমএস করেছে। ওর লেখা আমাকে আবেগতাড়িত করেছে।

চলচ্চিত্রে এখন যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁদের সম্পর্কে কিছু বলুন?
আমি একটি কথা বলতে চাই, চলচ্চিত্রের মানুষগুলো সত্যিকার অর্থে অনেক ভালো, দু-একজন বাদে। মানুষ হয়তো বাইরে থেকে চলচ্চিত্রের মানুষদের নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলে, উল্টাপাল্টা ভাবে। এই যেমন আমার সম্পর্কে অনেকে বলে, আমি খুব অহংকারী। যখন কেউ আমার সঙ্গে মেশে, তখন বলে, আল্লাহ, উনি তো একেবারেই অন্য রকম একজন মানুষ। পৃথিবীর সব জায়গার মানুষ ভালো-মন্দ মিলিয়েই। চলচ্চিত্রের মানুষগুলোকে ভালো লাগে এ জন্য, ওরা স্বার্থপর না। চলচ্চিত্রের এ মানুষগুলোর নিজের পরিবারের প্রতি যেমন টান, তেমনি আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের নিয়েও তাঁরা বেশি ভাবে।

চলচ্চিত্র নিয়ে কী স্বপ্ন দেখেন?
মাঝে একটু খারাপ সময় ছিল, এখন ভালোর দিকে। আমি মনে করি, সুদিন ফিরে আসবে। শুনছি, এখন শাকিব খান দেশের বাইরে বাণিজ্যিকভাবে সফল হচ্ছে। এর বাইরে বাংলাদেশের আরও কয়েকজন ভারতে ভালো কাজ করে, সুনাম কুড়াচ্ছে। তাদের প্রতি অনুরোধ, বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি যেন ক্ল্যাসিক গল্পের ছবিতে কাজ করে, যা তাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাঁচিয়ে রাখবে। বাংলাদেশে এমন কিছু ছবি নির্মিত হবে, যা বিশ্বের বিভিন্ন বড় উৎসবে প্রদর্শিত হতে হবে। আমাদের দেশকে তুলে ধরতে পারবে ছবিগুলো। অভিনয়শিল্পী, পরিচালকেরা নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবে। বিকল্পধারার ছবির প্রযোজকেরা বাণিজ্যিক ছবি প্রযোজকদের মতো অত টাকার মালিক না। প্রয়োজনে শাকিব খানসহ অন্য যারা বাইরে ছবি করে সফল হচ্ছে, তাদের ক্ল্যাসিক কিংবা বিকল্পধারার ছবির জন্য বিনা পয়সায় কাজ করার মানসিকতাও থাকতে হবে। আমি নিজে যখন অনেক ভালো গল্প পেয়েছি, টাকাপয়সা ছাড়াই কাজটি করেছি। সম্মানের কথা ভেবেছি, সম্মানী নিয়ে ভাবিনি।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »