বার্তাবাংলা ডেস্ক »

রাত পোহালেই প্রকাশ হবে ভারতের আসামের বহুল আলোচিত জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণ বা ‘এনআরসি’-এর চূড়ান্ত খসড়া তালিকা।

সোমবার সকালে সম্পূর্ণ খসড়া প্রকাশ করতে রাজ্যের প্রতিটি সেবাকেন্দ্র প্রস্তুত হয়েছে। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও।

আসামের প্রতিটি জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী। রাজ্যজুড়ে কড়া নজর রেখেছে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার। পুরো রাজ্যে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে; উৎকণ্ঠায় প্রহর গুণছে মানুষ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুপুরের মধ্যেই রাজ্যের সমস্ত নাগরিকপঞ্জি কেন্দ্রগুলোতে এই তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হবে। তালিকায় নামের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে বৈধ নাগরিকদের ঠিকানা ও ছবিও। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে থেকে আসামে বসবাসকারী ভারতীয়দের নাম থাকবে তালিকায়।

জুগশঙ্খের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে রাজ্যবাসীর মধ্যে প্রবল উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সঙ্গে রয়েছে আতঙ্ক এবং আশঙ্কা। সম্পূর্ণ খসড়া প্রকাশের পর রাজ্যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া এবং কার নাম থাকবে ও কার নাম বাদ পড়বে এই আতঙ্কই এখন সর্বত্র। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি রয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

 

সার্বিক বিষয় নিয়ে নাগরিকপঞ্জির রাজ্য সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা সাংবাদিকদের বলেছেন, এনআরসি সম্পূর্ণ খসড়া প্রকাশ করতে আমরা প্রস্তুত। এখন শুধু অপেক্ষা সেই ক্ষণের। সোমবার সকাল থেকেই এনআরসি সেবাকেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি অনলাইনে, এসএমএসের মাধ্যমে মানুষ নিজের নাম দেখতে পাবে।

তিনি বলেন, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ব্যাপারে সবাইকে জানানো হয়েছে। চালু করা হয়েছে হেল্পলাইন নম্বরও।

নাগরিকপঞ্জির সম্পূর্ণ খসড়া প্রকাশ উপলক্ষে রাজ্যে ২২০ প্লাটুন অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে বসানো হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা। হেলিকপ্টারে নজরদারি শুরু হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে। কড়া নজর রাখা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে আসাম পুলিশের এডিজিপি পল্লব ভট্টাচার্য বলেন, খসড়া প্রকাশের আগেই জেলাভিত্তিক স্পর্শকাতর স্থানগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ।

তিনি জানান, খসড়ায় নাম না থাকলেও যে পরে আবেদন করে নাম অন্তর্ভূক্তি সম্ভব তা জানানো হয়েছে সবাইকে। বিভিন্ন দল-সংগঠনের সঙ্গেও সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

এনআরসিতে নাম তালিকাভুক্ত করতে আসামের মোট ৩ কোটি ২৯ লাখ মানুষ আবেদন করেন। গত ৩১ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ১ কোটি ৯০ লাখ নাম ঠাঁই পায় এনআরসিতে। এবার প্রকাশ হচ্ছে দ্বিতীয় দফার তালিকা।

এনআরসি তালিকাভুক্ত হতে না পারলে অনেকেই মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মণিপুর বা ত্রিপুরার মতো আশেপাশের রাজ্যগুলোতে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এনআরসি রিপোর্ট অনুসারে, আসামে ৩০ লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশ (পূর্বতন পূর্ব পাকিস্তান) থেকে সেখানে যান। পুরুষানুক্রমে তারা আসামে বসবাস করছেন।

১৯৫১ সালে প্রথম এনআরসি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। এই রিপোর্ট অনুসারে পরবর্তী সময়ে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নাম নথিভুক্ত করা হয়। এ ব্যাপারে তাদেরকে সবরকম তথ্যপ্রমাণ দেখাতে হয়েছে। ওইসব তথ্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার এনআরসির চূড়ান্ত খসড়া তালিকা প্রকাশ হচ্ছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »