গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না : অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ

‘খুব সম্প্রতি বাসে ৬০/৬৫ বছর বয়সী একজনের মাধ্যমে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছি। অতীতেও হয়েছি বহুবার। বিশ্বাস করবেন না এ পোস্টটা লেখার সময় আমার চোখ দিয়ে পানি ঝরছে অপমানে। এত অপমানও মেয়েদের জন্য বরাদ্দ??? সবচেয়ে অবাক হই ভার্সিটির শিক্ষিত ছেলেরা এমনকি অনেক সময় মেয়েরাও যৌনহেনস্থা হওয়া মেয়েটির বিপক্ষে কথা বলেন, নয়তো চুপ করে থাকেন।
ধিক্ তাদের ধিক্ এ সমাজকে ধিক্…’

এরকম অভিজ্ঞতার শিকার হরহামেশায় হচ্ছেন নারীরা। কেউ বলছেন। কেউ বলছেন না। চুপ করে থাকছেন। সহ্য করছেন। কিন্তু এ চুপ করে থাকার জন্য কিংবা সহ্য করার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধ বেড়েই চলেছে। আর তাই এগুলোর প্রতিবাদ হওয়া প্রয়োজন। প্রতিবাদটা হতে পারে অনেকভাবে। হতে পারে মুখে। আবার হতে পারে ভিন্নভাবেও।

তেমনই এক প্রতিবাদের উপায় নিয়ে হাজির হয়েছে বিজেন্স নামে একটি ফেসবুক পেজ। বিজেন্স মূলত একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠান যেখান থেকে নারীদের ব্যাবহার্য বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হয়।

বিজেন্সের তেমনই একটি পণ্য খোপার কাঁটা। তবে এ কাঁটা অন্যগুলোর থেকে একটু ভিন্ন। এখানে লেখা রয়েছে ‘গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না’।

বিজেন্স বলছে, এই কাঁটার মাধ্যমে একজন নারী তার নোংরা অভিজ্ঞতাকেই প্রকাশ করেছে।

তারা বলছে, ‘একজন মেয়ের সঙ্গে হওয়া অপমানজনক সিচুয়েশনকে কখনই বিজনেস স্ট্রেটেজি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইনি। চেয়েছি আপনারা আওয়াজ তুলন, প্রতিবাদী হোন অভিজ্ঞতা শুনে। আর একজনও যাতে আপনাদের নীরব দর্শকের ভূমিকায় না পায়।’

‘বিজেন্স অতীতেও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করেছে মানসিকতায় পরিবর্তন আনার জন্য। ফ্যাশন এক্সেসরিজে কী করে এই থিম নিয়ে আসা যায় সে ভাবনা থেকে।’

যাতায়াত খরচ, গয়না পলিশ, গয়না ওয়াশ, শ্যুট এর খরচ, প্যাকেজিং খরচ (হ্যাঙ্গিং ব্যাগ, প্রাইজ ট্যাগ, গয়নার বক্স), একজন আর্টিস্টের চার ঘণ্টা ধরে আঁকার খাটুনি, রঙ, সবশেষে এর উপর একটি স্বচ্ছ পাতলা প্রলেপ দেয়া হয়েছে রঙ উঠে না যাওয়ার জন্য যা অত্যন্ত ব্যয় বহুল, দুষ্প্রাপ্য বাংলাদেশে এবং জমে শক্ত হওয়া সময় সাপেক্ষ একটি তরল পদার্থ যার নাম ‘রেজিন’। এসব মিলে বিজেন্স খোপার কাঁটাটির দাম নির্ধারণ করেছে ৫০০ টাকা।