বার্তাবাংলা ডেস্ক »

আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম বলেছেন, তিন সিটির আসন্ন নির্বাচন গাজীপুর ও খুলনার চেয়েও ভালো হবে। গাজীপুর ও খুলনার ভোটে যেসব ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ ঘটেছে তিন সিটির নির্বাচনে সেগুলোর পুনরাবৃত্তি রোধে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সহায়তা করতে চায় সরকার।

তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান তিন সিটিসহ সব নির্বাচন যেন শতভাগ সুষ্ঠু হয়। এ বার্তা তারা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দিয়েছেন। সরকার চায় ইসির ভাবমূর্তি যেন সমুন্নত থাকে।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের নেতৃত্বে বুধবার নির্বাচন কমিশনে যায় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে. এম. নুরুল হুদা ও কমিশনারদের সঙ্গে দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে এইচটি ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, ভোটের পর কিছু সংগঠন নির্বাচন সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়। তা কীভাবে রোধ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করতেই তারা কমিশনে এসেছিলেন।

আওয়ামী লীগের অভিযোগ ছিল ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) বিরুদ্ধে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী এনজিওগুলোর এ জোট খুলনা ও গাজীপুরের ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল। এইচটি ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, ইডব্লিউজি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক নয়। এ সংগঠনটির সঙ্গে থাকা এনজিওগুলোর নিবন্ধন থাকলেও ইডব্লিউজির তা নেই।

এইচটি ইমাম দাবি করেন, নিয়ম অনুযায়ী পর্যবেক্ষরা ভোট কেমন হয়েছে সে-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ইসিকে দেবে। কিন্তু তা না করে আগেভাগে গণমাধ্যমে প্রকাশ করছে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এমনটি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

ইডব্লিউজির ‘ভুল’ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গাজীপুর ও খুলনার নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশ্ন তুলেছিল উল্লেখ করে এইচটি ইমাম দাবি করেন, এতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।

ভারতের চেয়ে ভালো স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে বাংলাদেশে— এমন দাবি করে তিনি বলেন, গাজীপুর ও খুলনায় মাত্র চার দশমিক ৬ শতাংশ কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৪ জন খুন হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এমন ঘটনা ঘটেনি।

বিএনপির অভিযোগ— তিন সিটির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে এবং সরকারি দলের নেতারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। এসব অভিযোগের জবাবে এইচটি ইমাম দাবি করেন, এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ চায় সবাই আরচণবিধি মেনে চলুক। আওয়ামী লীগের কেউ আচরণবিধি ভাঙেনি।

রাজশাহীতে ভোটের প্রচারে এমপিদের সরব উপস্থিতি ও সরকারি কর্মচারীদের নির্বাচনী প্রচারে থাকার অভিযোগের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দায়ী এমপিকে সতর্ক করবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এবিএম রিয়াজুল কবির কাউছার।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »