বার্তাবাংলা ডেস্ক »

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুক্তিযুদ্ধের একটি ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনের সুখ-দুঃখ ও আনন্দ-বেদনার গল্প নিয়ে জহির রায়হানের ছোটগল্প ‘সময়ের প্রয়োজনে’। এ গল্পকে অবলম্বন করে থিয়েটার আর্ট ইউনিট একই শিরোনামে মঞ্চ নাটক করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা, নৃশংস গণহত্যা, রাজাকারদের ঘৃণ্য অপরাধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ নিয়ে ‘সময়ের প্রয়োজনে’ নাটকটির প্রদর্শনী দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হয় নাটকটি।

 

 

গতকাল ‘সময়ের প্রয়োজনে’ নাটকটির ছিল ৭০তম প্রদর্শনী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে নাটকটির ৭১তম প্রদর্শনী হবে। দলের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও এ নাটকের অভিনেতা চন্দন রেজা বললেন, ‘আমাদের বেশ কিছু প্রযোজনা চালু আছে। সব কটি নাটকেরই পালাক্রমে প্রদর্শন হয়। তা ছাড়া নিয়মিত হলও পাওয়া যায় না। এ কারণে দীর্ঘদিন বিরতির পর আমরা সময়ের প্রয়োজনের পরপর দুটি প্রদর্শনী করছি। এখন থেকে নিয়মিত নাটকের প্রদর্শনী করব।’
শহীদ বুদ্ধিজীবী জহির রায়হানের ছোটগল্প ‘সময়ের প্রয়োজনে’ অবলম্বনে নাটকটির নাট্যরূপ ও নির্দেশনায় ছিলেন মোহাম্মদ বারী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দর্শক নাটকটি উপভোগ করেন।

 

 

রবীন্দ্রনাথের গান ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’-এর কোরিওগ্রাফি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নাটকটির মঞ্চায়ন শুরু হয়। এ সময় নেপথ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের অংশ বিশেষ রেকর্ডে বাজানো হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় সাংবাদিক জহির রায়হান মুক্তাঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ক্যাম্পে আসেন। সেখানে কমান্ডার তার হাতে একজন তরুণ মুক্তিযোদ্ধার ডায়েরি তুলে দেন। সেই ডায়েরির সূত্র ধরেই এগিয়ে যায় নাটক। একে একে দর্শকদের সঙ্গে পরিচয় ঘটে মুক্তিযোদ্ধাদের। মুক্তিযোদ্ধাদের সংলাপে উঠে আসে যুদ্ধের পরিস্থিতি। আসে সাম্প্রদায়িকতার বিষাক্ত ছোবলের কথাও। নাট্যকার তুলে এনেছেন যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতির আভাসও। বঙ্গবন্ধুর হত্যা, প্রতিক্রিয়াশীলদের অশুভ তৎপরতা, রাজাকারদের আবার ক্ষমতার কাঠামোয় স্থান পাওয়া ইত্যাদি বিষয় নাটকের কাহিনিতে স্থান পেয়েছে।

 

২০০৫ সালে মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়। নাটকটি প্রথম মঞ্চে আসার সময়কালের স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে চন্দন রেজা বলেন, ‘নাটকটি প্রথম মঞ্চে আসার আগে আমরা ইস্কাটনের বালক বিদ্যালয়ে মহড়া করতাম। আমরা যাঁরা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, নাটকটিতে তাঁদের খাপ খাইয়ে নিতে মানসিকভাবে প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের ওপর কর্মশালা করেছি, জাদুঘরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালের পোশাক-আশাক দেখেছি, মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনেছি। নাটকটি করতে সাংঘাতিকভাবে টিমওয়ার্ক করতে হয়েছে। নাটকটিকে একটা উন্নত জায়গায় নিতে মহড়ার মঞ্চেই বেশি সময় দেওয়া হয়েছে।’

 

ইতিমধ্যে নাটকটি বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অভিনয় করেছেন মোহাম্মদ বারী, প্রশান্ত হালদার, সেলিম মাহবুব, মিল্লাত, সাথী রঞ্জন দে, সাইফ সুমন, ফেরদৌস আমিন বিপ্লব, চন্দন রেজা, সৈয়দ অলক, কামাল রায়হান, আবু সুফিয়ান, নাহিদ সুলতানা, প্রদীপ বিশ্বাস, জায়েদ হোসেন, মাহফুজ সুমন, নুরুজ্জামান বাবু, এস আর সম্পদ, সরকার জামান, সুমন আকন্দ, রাকিব প্রমুখ।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »