বার্তাবাংলা ডেস্ক »

দেশে জবাবদিহিমূলক সরকার থাকলে কয়লা ইস্যুতে তারা পদত্যাগ করত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

তিনি বলেন, ‘কয়লা উধাও হয়ে গেল, নিশ্চয়ই কয়েকমাস ধরে এটা চলছিল, ওখানে যারা পরিচালনা করত, তারা নিশ্চয়ই জানত যে আমাদের মজুদ কমে যাচ্ছে। তারজন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল।’

বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় ‘চেতনা বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন এ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি দোহার উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামিমা রহিম।

মওদুদ বলেন, ‘ব্যাংকগুলো লুট হলো, খালি হলো। একটি মানুষও গ্রেফতার হলো না। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় একজনকেও গ্রেফতার করা হলো না কেন? এবার সোনা চুরিতে রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন রেকর্ড নাই যে ডলার চুরি হয়, সোনা চুরি হয় এবং একজন লোকও গ্রেফতার হয় না। আর এখন কয়লা চুরি হয়েছে। হঠাৎ করে একদিন আবিষ্কার হলো যে কয়লা চুরি হয়ে গেছে। কয়লা হাওয়া হয়ে গেছে। আকাশে মিশে গেছে। এর চেয়ে বড় কেলেঙ্কারি আর কিছু হতে পারে না। আজকে যদি এই দেশে সত্যিকারে জবাবদিহিমূলক সরকার থাকত, তাহলে প্রত্যেকটা ইস্যুতে তারা পদত্যাগ করতে বাধ্য হত।’

তিনি বলেন, ‘অন্য কোনো দেশ হলে এই কয়লা ইস্যুতে সরকার পদত্যাগ করত, অন্য কোনো গণতান্ত্রিক সভ্য দেশ হলে কোনো সরকার একদিনের জন্য আর টিকে থাকত না। নিজেরা পদত্যাগ করে চলে যেত। কিন্তু এখানে একটা নির্লজ্জ জবাবদিহি, ভোটবিহীন সরকার পার পেয়ে যাচ্ছে। কারণ সেই তাদের বিবেকবোধ, তারা যে অপরাধ করেছে সেই বোধ তাদের নাই।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামের এই নেতা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন হবে। নির্বাচনের আগে বেগম জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। নির্দলীয় সরকার থাকতে হবে, যে সরকারের রাজনৈতিক কোনো স্বার্থ থাকবে না। সেনা মোতায়েন করতে হবে, নির্বাহী পাওয়ার দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। এ নির্বাচন কমিশন কোনোদিন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। সে প্রমাণ তারা দিয়েছে। তাদের অনেক টেস্ট দিয়েছি।’

সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই মন্তব্য করে মওদুদ বলেন, ‘মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা ছিল সরকারের মদদপুষ্ট ছাত্রলীগ-যুবলীগ সন্ত্রাসীদের সুপরিকল্পিত আক্রমণ। মাহমুদুর হমান, শফিক রেহমানসহ দু-চারজন ছাড়া অন্য বুদ্ধিজীবীরা তাদের বুদ্ধি প্রয়োগ করেন না বা বিক্রি করে দিয়েছেন, সেবাদাসে পরিণত হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আইনের প্রয়োগ বাংলাদেশে দুই রকমের। যারা সরকারি দল করেন তাদের প্রতি আইনের প্রয়োগ একরকম অর্থাৎ আইনের প্রয়োগ হয় না। আর যারা সরকারবিরোধী, তাদের ক্ষেত্রে আইনের অপপ্রয়োগ হয়। আমরা যারা সরকারবিরোধী তারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। কারণ, আইন আমাদের প্রতি সমানভাবে প্রয়োগ করা হয় না।’

সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান সমান অধিকার দিলেও তা থেকে আমরা বঞ্চিত। এ কারণে বাংলাদেশে মানুষে মানুষে বৈষম্য দেখা দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তাই তাকে গণতন্ত্রের মানসকন্যা বলতে হবে।’

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মুদুদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আপনাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ এটাই একমাত্র পথ। আমরা আইনি পথে চেষ্টা করেছি, করে যাব, কিন্তু তাতে কোনো ফল পাওয়া যাবে না। যাবে না বলেই মনে হয়। কারণ আদালতের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব প্রচণ্ড। নিম্ন আদালত সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে, বিচারকদের কোনো স্বাধীনতা নেই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা তছনছ হয়ে গেছে। ’

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »