বার্তাবাংলা ডেস্ক »

বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকায় মো. আপেল মাহমুদের নিয়োগ অনুমোদনের প্রস্তাব ২০১৭ সালের জুলাই মাসে বাতিল করে দেয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আলফা ইসলামী লাইফে এখনও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আপেল মাহমুদ। তবে অদৃশ্য কারণে সবকিছু জেনেও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না আইডিআরএ’র বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তারা।

আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, নতুন প্রজন্মের জীবন বীমা কোম্পানি আলফা ইসলামী লাইফে ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়মিত সিইও নেই। দীর্ঘদিন সিইও পদটি খালি রাখার পর চলতি বছরের মার্চে মো. আপেল মাহমুদকে এ নিয়োগের অনুমোদন চেয়ে আইডিআরএতে আবেদন করা হয়।

কিন্তু আপেল মাহমুদের সিইও হওয়ার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকার বিষয়ে আইডিআরএতে একটি অভিযোগ জমা পড়ে। আলফা ইসলামী লাইফের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে করা অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ সংক্রান্ত প্রবিধানমালা ২০১২ অনুসারে আপেল মাহমুদ মুখ্য নির্বাহীর অব্যবহিত পরের পদে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেননি।’

এছাড়া আলফা ইসলামী লাইফে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, অবৈধ কমিশন, আইডিআরএ’র নির্দেশনা অমান্য করে অনৈতিকভাবে প্রিমিয়াম সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। ফারইষ্ট ইসলামী লাইফে চাকরিকালেও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, আপেল মাহমুদ আলফা ইসলামী লাইফে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ পান ২০১৫ সালের জুলাই মাসে। ওই বছরের অক্টোবর থেকে তিনি কোম্পানিটির ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে তিনি ফারইষ্ট ইসলামী লাইফে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব সার্ভিসিং পদে কর্মরত ছিলেন। আপেল মাহমুদ ফারইষ্ট ইসলামী লাইফে চাকরি শুরু করেন ২০০৯ সালে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে। এরপর ২০১৩ সালে তিনি ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে পদোন্নতি পান। এর আগে তিনি হোমল্যান্ড লাইফে সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে চাকরি করেন।

এ অভিযোগের ভিত্তিতে সার্বিক তথ্য খতিয়ে দেখে গত বছরের ১৩ এপ্রিল ‘অযোগ্য ব্যক্তিকে সিইও হিসেবে চায় আলফা লাইফ’ শিরোনামেএকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আইডিআরএ সূত্র জানিয়েছে,ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আলফা লাইফের কাছে আপেল মাহমুদের সিইও হওয়ার যোগ্যতার প্রমাণ চাওয়া হয়।

তবে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার অব্যবহিত নিম্নপদে তিন বছরের কর্ম অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয় প্রমাণ দিতে পারেননি আপেল মাহমুদ। যে কারণে ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি তার নিয়োগ অনুমোদনের প্রস্তাব বাতিল করে আইডিআরএ থেকে আলফা ইসলামী লাইফের চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি পাঠানো হয়।

ওই চিঠিতে আইডিআরএ উল্লেখ করে, ‘মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার অব্যবহিত নিম্নপদে তিন বছরের কর্ম অভিজ্ঞতা না থাকায় আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মো. আপেল মাহমুদের নিয়োগ প্রস্তাব বিবেচনা করা গেলো না।’

এদিকে বীমা আইনের ৮০ (৪) ধারায় বলা হয়েছে, ‘বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পদ তিন মাসের বেশি শূন্য রাখা যাবে না। তবে অপরিহার্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এ সময় আরও তিন মাস বাড়াতে পারবেন।’

আপেল মাহমুদের নিয়োগ প্রস্তাব বাতিল করে পাঠানো চিঠিতে বীমা আইনের এ ধারা উল্লেখ করে শিগগিরই যোগ্য মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশ দেয়া হয়। তবে আইডিআরএ’র সেই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যোগ্য সিইও নিয়োগের পদক্ষেপ গ্রহণ না করে এখনও আপেল মাহমুদকেই আলফা লাইফের সিইও পদে রাখা হয়েছে।

এদিকে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর পাশাপাশি আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) কার্যনির্বাহী সদস্য পদেও রয়েছেন মো. আপেল মাহমুদ। অথচ মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার নিচের পদে চাকরি করা কোনো কর্মকর্তার বিআইএতে সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন, ‘আইডিআরএ থেকে আপেল মাহমুদের নিয়োগ অনুমোদনের প্রস্তাব বাতিল করা সংক্রান্ত কোনো তথ্য আমরা পাইনি। যদি এ বিষয়ে কেউ তথ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ করে তাহলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

আইডিআরএ’র অনুমোদন ছাড়া আপেল মাহমুদের সিইও পদে থাকার বিষয়ে আলফা ইসলামী লাইফের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন আহমেদর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো সবই জানেন, তাহলে আমাদের কাছে প্রশ্ন করছেন কেন? এ বিষয়ে আইডিআরএকে প্রশ্ন করেন।’

এ বিষয়ে আপেল মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটুয়ারি এবং সদস্য মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে একই বিষয়ে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »