বার্তাবাংলা ডেস্ক »

সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের শীর্ষ ১০ জন ঋণ খেলাপির তথ্যসহ ব্যাংকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে সরকার। খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর উদ্যোগ ও ঋণ অনিয়মে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনূসুর রহমানকে চিঠি দিয়ে দ্রুত এসব তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন। চিঠিতে দেশের ব্যাংকগুলোর মূলধন, পরিশোধিত মূলধন, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সংখ্যা ও তাদের নাম-পরিচয়, ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ ও মোট খেলাপি ঋণ সম্পর্কে তথ্য জানতে চেয়েছেন তিনি। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে অপর এক চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এসব বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। 

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে সংশ্নিষ্টরা জানান, গত কয়েক বছরে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকে ঘটে যাওয়া ঋণ অনিয়ম, মালিকানা পরিবর্তন, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি দেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সরকারও এসব ঘটনায় সমালোচিত হয়েছে। নির্বাচনের আগে সরকার ব্যাংক খাতের উন্নয়নে ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপ নিতে চায়। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার কঠোর উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি ঋণ অনিয়মে সম্পৃক্তদের ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তারই অংশ হিসেবে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, এ জন্য অপর এক চিঠিতে ঋণ গ্রহীতাদের পরিচয়, ঋণদাতার বিবরণ, ঋণের পরিমাণ ও শর্তাবলি, ঋণ জামানতের তথ্য এবং বকেয়া ঋণের আসল ও সুদের হিসাব জানতে চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এর আগে অর্থমন্ত্রী সরকারি ব্যাংকের শীর্ষ ১০০ খেলাপির তালিকা জাতীয় সংসদে প্রকাশ করেন। এবার সব ব্যাংকের তথ্য চাইলেন তিনি। এর আগে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে এবং সমস্যা সমাধানে একটি ‘ব্যাংক কমিশন’ গঠনের কথা কয়েকবার বলেছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু চলতি অর্থবছরের বাজেট পেশ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সরকারের সময়ে কমিশন গঠন করা হচ্ছে না বলে জানিয়ে দেন। তবে কমিশন গঠনের জন্য  কাগজপত্রসহ সবকিছু প্রস্তুত করে যাবেন বলেও সাংবাদিকদের জানান তিনি।

গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংক খাত আলোচনার মধ্যে রয়েছে। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ। এ ছাড়া নতুন কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় আয়ের থেকে বেশি, দুটি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ব্যাপক পরিবর্তনও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ ফারমার্স ব্যাংক কেলেংকারি ও ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। কয়েক বছর আগে থেকে বেসিক ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক আলোচনায় রয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জনতা ব্যাংক। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে বাজেট থেকে মূলধন সরবরাহ করতে হচ্ছে।

দেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি খাতের মোট ৫৬টি ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত মার্চ পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২২ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৮৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এর মধ্যে মন্দমানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৩ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা, যা মোট খেলাপি ঋণের ৮৩ দশমিক ১০ শতাংশ। এর মধ্যে মন্দমানের বাইরে সন্দেহজনক মানে রয়েছে ৫ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা। আর নিম্নমানে রয়েছে ৯ হাজার ১৯ কোটি টাকা। এর বাইরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করেছে বিভিন্ন ব্যাংক। এসব ঋণ বিবেচনায় নিলে মোট খেলাপি ঋণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকবে। ব্যাপক এই খেলাপি ঋণের বড় অংশই আটকে আছে শীর্ষ খেলাপিদের কাছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »