বার্তাবাংলা ডেস্ক »

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যকার বাণিজ্য দ্বন্দ্ব বাড়ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুরু হওয়া বাণিজ্যিক দ্বন্দ্বকে আর বাড়তে দিতে চায় না চীন। তবে দু’দেশের দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যাশন শিল্পগুলোতে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের আমদানি বাড়বে। চলতি (জুলাই ২০১৮) মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক তৈরি ও বিক্রেতাদের সংগঠন ইউএস ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (ইউএসএফআইএ) এর পরিচালিত এক জরিপে এমন তথ্য ওঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বহুজাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও বিক্রেতা, নীতিনির্ধারক এবং বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমগুলো থেকে নেয়া তথ্যের মাধ্যমে জরিপের এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। যেখানে অংশগ্রহণকারীদের ৬৭ শতাংশই মনে করেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে চীন থেকে পোশাক আমদানি কমে যাবে এবং বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি রেকর্ড মাত্রায় বেড়ে যাবে।

‘ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি বেঞ্চমার্কিং স্টাডি-২০১৮’ নামে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যাশন শিল্পগুলোতে পোশাক সরবরাহকারী দেশের তালিকায় গত বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল সপ্তম, যা এ বছর পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

জরিপের উত্তরদাতারা চীনের বিকল্প হিসেবে আগামী দুই বছরে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি করতে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পোশাক আমদানিতে শীর্ষ স্থান থেকে চীনকে এখনই সরানো সম্ভব নয়। কিন্তু এশিয়ার অন্য অনেক সরবরাহকারীর চেয়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বেশি গুরুত্ব পাবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জরিপের প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা মনে করেন, ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি আরও বাড়বে। যা ২০১৭ সালে কাপড় আমদানির তুলনায় ৩২ শতাংশ বেশি হতে পারে। তবে বাংলাদেশের ‘কমপ্লায়েন্স ঝুঁকি’ এখনও রয়ে গেছে, যা বড় ধরনের দুর্বলতা।

ইউএসএফআইএ-এর প্রেসিডেন্ট জুলিয়া হজেস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার অন্যতম বাণিজ্য অংশীদার চীনের মধ্যকার ক্রমবর্ধমাণ বাণিজ্য যুদ্ধ এ মুহূর্তে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও বিক্রেতাদের জন্য ‘অনিশ্চয়তা’ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যনীতি ২০১৮ সালেও দেশটির ফ্যাশন কোম্পানিগুলোর জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবেই থাকবে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »