বার্তাবাংলা ডেস্ক »

ব্রিটেনের আইনজীবী লর্ড অ্যালেক্স কার্লাইলকে কেন বাংলাদেশের ভিসা দেয়া হলো- সরকারের কাছে এই প্রশ্নেরর উত্তর জানতে চেয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মামলায় লড়তে ঢাকায় আসার কথা ছিল লর্ড কার্লাইলের। সরকার তাকে বাংলাদেশের ভিসা দিল না। অথচ আগরতলা মামলায় লড়তে স্যার টমাস উইলিয়ামকে ঠিকই বাংলাদেশে এসে আইনি লড়াই করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। এমব বৈষম্য কেন?

বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা অবহেলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক।

সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে মঈন খান বলেন, লর্ড কার্লাইল তো খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তাহলে তাকে কেন খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনি পরামর্শ দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি? দেশের প্রত্যেকটি মানুষের গণতান্ত্রিক, আইনি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু খালেদা জিয়াকে সেটি দেয়া হচ্ছে না।

আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে। আমি বলে রাখতে চাই, বিএনপিকে গৃহপালিত রেখে কেউ যদি নির্বাচন করতে চায় তাহলে তাদের নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। সরকারকে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে বাধ্য করা হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে বিএনপি আগামী ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতারা ঠাট্টা-মশকরা করে বিএনপি নাকি আন্দোলন করতে পারে না। আমিও তাদের সঙ্গে একমত, বিএনপি আওয়ামী লীগের মতো লগিবৈঠা নিয়ে আন্দোলন করে না। লাঠি দিয়ে সাপ পেটানোর মতো মানুষ মেরে আন্দোলন করে না। বিএনপি গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর সরকারের অত্যাচারের বিষয়ে তিনি বলেন, গত ৯ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। ১৮ লাখ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এরপরও খালেদা জিয়া আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।

উল্লেখ্য, ব্রিটেনের সেরা আইনজীবীদের একজন লর্ড কার্লাইল। গত মার্চ মাসে তাকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কথা জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তারপর থেকে লর্ড কার্লাইল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু বাংলাদেশের আদালতে খালেদা জিয়ার হয়ে মামলা লড়ার জন্য আসতে চাইলেও তার জন্য ভিসা পাননি।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »