বার্তাবাংলা ডেস্ক »

ফস্বল থেকে যারা পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় আসেন; তাদের মধ্যে অধিকাংশই হাতে-কলমে শিক্ষার অভাবে ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পান না। বেকারত্ব দূর করার উদ্দেশে বিজনেসের পাশাপাশি অরকিড কনস্ট্রাকশন এ ধরনের শিক্ষার্থীদের প্রায়োগিক সংযুক্তির সুযোগ দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির আওতায় ডিপ্লোমা বা পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের তিন মাসের একটি কোর্স করানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ড ও পরিকল্পনা নিয়েপরিচালন অধিকর্তা শেখ শাহিনুজ্জামান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইয়ামিন মজুমদার-

শেখ শাহিনুজ্জামান : প্রথম থেকেই আমার শিক্ষা খাত ও তরুণদের নিয়ে কাজ করার প্রবল ইচ্ছা ছিল। আমি যেহেতু এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই এ প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক কিছু একটা করতে চেয়েছি। ২০১৫ সালে সেই ভাবনা থেকে আমি আমার প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বললাম। তারা আমাকে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন এ ব্যাপারে। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, মফস্বলের সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিতদের আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে হাতে-কলমে তিন মাসের একটি কোর্স করাবো। শুরুতে আমরা প্রায় ১০০ জন নিয়ে যাত্রা শুরু করি। এখন নিয়মিত কোর্সটি করানো হয়।

শেখ শাহিনুজ্জামান: এই প্রতিষ্ঠানে আর্কিটেকচার ডিজাইন, সিভিল ওয়ার্ক, পাইলিং ইত্যাদি কাজ শেখানো হয়। আমরা মূলত তিন মাসে প্রধান কাজগুলো শিখিয়ে থাকি।

শেখ শাহিনুজ্জামান: গত কোর্সে প্রায় ৩০০ জন আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বর্তমানে ১৫০ জনকে নিয়ে আমরা কাজ করছি। বরিশাল, বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর, নোয়াখালী ও ভোলাসহ প্রায় প্রত্যেকটি জেলার শিক্ষার্থীরা আমাদের এখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

শেখ শাহিনুজ্জামান: দশজন প্রশিক্ষক আছেন। সবাই বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার। প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে আছেন আসাদুজ্জামান। তারা খুব সুন্দর কৌশলে তিন মাসেই কাজের মূল ধারণা দিয়ে থাকেন। আর আমি আমার প্রশিক্ষকদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি আশাবাদী।

শেখ শাহিনুজ্জামান: আমাদের নিজস্ব ল্যাব আছে। যারা ভালো দক্ষতা দেখাচ্ছেন; তাদের নিয়ে আমরা আলাদাভাবে কাজ করে থাকি। তাদের চাকরির ক্ষেত্রে সাহায্য করে থাকি। ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ কর্মশালা করানো হয়। আমরা তাদের নিয়ে বিভিন্ন সেমিনার করি। এমনকি কোর্স শেষে তাদের সার্টিফিকেট দিয়ে থাকি।

শেখ শাহিনুজ্জামান: বাংলাদেশের তরুণ সমাজ বেকারত্ব সমস্যায় ভুগছে। আমদের মূল উদ্দেশ্য বেকারত্ব দূর করা। আমরা মফস্বলের শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা দিচ্ছি। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কাজ শিখে অনেকেই ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পাচ্ছে। আমাদের দেশের রাস্তা-ঘাট, সেতু, বিল্ডিং ইত্যাদি নির্মাণে বাইরের দেশের প্রকৌশলীদের দিয়ে কাজ করিয়ে থাকি। অথচ আমাদের মেধাকে কাজে লাগানো উচিত। আমরা আমাদের ভিত্তিকে শক্ত করার জন্য তরুণ ও মেধাবীদের নিয়ে কাজ করছি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাল মিলিয়ে আমরা ভালো অবস্থানে যেতে চাই।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »