দেশ-বিদেশের কোটার তথ্য সংগ্রহ করবে কমিটি

কোটা

দেশ-বিদেশের কোটা সংক্রান্ত তথ্য ও প্রতিবেদন সংগ্রহ করবে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পর্যালোচনা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। রোববার সচিবালয়ে কমিটির প্রথম বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিধি) আবুল কাশেম মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। আবুল কাশেম কমিটিতে সাচিবিক দায়িত্ব পালন করছেন।

যুগ্ম সচিব বলেন, ‘এটি কমিটির প্রথম মিটিং ছিল। মিটিংয়ে মূলত কমিটির কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই কর্মপন্থার প্রথম যে স্টেপ সেটি হচ্ছে- কোটা সংক্রান্ত দেশে-বিদেশে যে তথ্য রয়েছে বা আমাদের বিভিন্ন সময়ে গঠিত কমিশন বা কমিটির যে রিপোর্ট রয়েছে সেই রিপোর্ট যতদ্রুত সম্ভব সংগ্রহ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই রিপোর্ট, প্রতিবেদন বা তথ্য যেটাই বলেন, সেগুলো প্রাপ্তির পর মূলত আমরা দ্বিতীয় মিটিংয়ে বসব।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে গত সোমবার সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে তা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে সুপারিশ দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

গঠিত কমিটি আজ রোববার বেলা ১১টার কিছু সময় পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দফতরে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষ হয় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মদ, অর্থ বিভাগের সচিব মুসলিম চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব অপরূপ চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশনের সচিব আকতারী মমতাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

কতদিন পর দ্বিতীয় মিটিং বসবেন? -জানতে চাইলে কমিটির মুখপাত্র আবুল কাশেম মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের সময় ১৫ কর্মদিবস। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত পারি এ ১৫ দিনের মধ্যে থাকার। যদি না হয় সেটা আমরা পরবর্তীতে বলতে পারব। এখন পর্যন্ত ১৫ দিনের মধ্যেই রয়েছি।’

দেশ-বিদেশের প্রতিবেদন বলতে কী বুঝায়? -এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা বিভিন্ন ধরনের হবে। পত্রিকার প্রতিবেদন রয়েছে, আমাদের পিএসসির প্রতিবেদন রয়েছে, সাবেক ক্যাবিনেট সেক্রেটারি রয়েছেন কয়েকজন, তাদের কমিশন বা তাদের পারসোনাল রিপোর্টও রয়েছে, সেগুলো আমরা যত দ্রুত পারি সংগ্রহ করব। আমরা আসলে এটা নিয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করতে চাচ্ছি। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে এগুলো কালেক্ট করার। এগুলো কালেক্ট করার উপরই নির্ভর করবে পরবর্তী মিটিং।’

তথ্য সংগ্রহে কদদিন লাগবে? -জানতে চাইলে যুগ্ম সচিব বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব, পারলে এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা সংগ্রহ করব।’

কমিটি বিশেষজ্ঞ কাউকে অন্তর্ভুক্ত করবে কিনা- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা এখনও আমরা সিদ্ধান্ত নেইনি। রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা মিটিং করব। তখন আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কমিটি বসার বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কাশেম বলেন, ‘আন্দোলকারী যারা তারা তো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া করছেন। তারা অনেকেই তথ্য না জেনেও আন্দোলন করছেন। এটা যেহেতু প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন, এ বিষয়ে একটা ভালো সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য। এ শক্তিশালী কমিটি বাস্তবধর্মী ও তথ্যগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে।’

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ নেয়া হয় মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে। বিসিএসে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০, জেলা কোটায় ১০, নারী কোটায় ১০ ও উপজাতি কোটায় ৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করা আছে। এ ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগের বিধান রয়েছে।

এ কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধও করছিলেন তারা। কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা নিয়ে যখন এতকিছু, তখন কোটাই থাকবে না। কোনো কোটারই দরকার নেই। যারা প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তাদের আমরা অন্যভাবে চাকরির ব্যবস্থা করে দেব।’

সর্বশেষ গত ২৭ জুন জাতীয় সংসদে ‘সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকতে হবে, কমানো যাবে না’- বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদের এমন বক্তব্যকে সমর্থন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘অবশ্যই, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যই তো আজ আমরা স্বাধীন। তাদের অবদানেই তো আমরা দেশ পেয়েছি।’