বার্তাবাংলা ডেস্ক »

সম্প্রতি জার্মানীতে শেষ হওয়া “সিবিট” সম্মেলনে অংশীদার ও কাস্টমারদের সহায়তায় ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের বিভিন্ন সল্যুশন প্রদর্শন করেছে শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। ওই সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডেটা, ইন্টারনেট অব থিংকস (আইওটি) এবং সফটওয়্যার ডিফাইন্ড নেটওয়াকিং (এসডিএন) প্রদর্শন করে, যা বর্তমানে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ‘লিডিং নিউ আইসিটি, দি রোড টু ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন’ স্লোগানকে সামনে রেখে ওই সম্মেলনে হুয়াওয়ে তাদের নতুন নতুন ডিজিটাল উদ্ভাবন প্রদর্শন করে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের নতুন ভিশন, প্রযুক্তি, প্ল্যাটফর্ম, ইকোসিস্টেম উন্নয়ন (যেমন: ক্লাউড কম্পিউটিং, আইওটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা, উন্নততর ডেটা সেন্টার, এন্টারপ্রাইজ ক্যাম্পাস, ইএলটিই এবং এন্টারপ্রাইজ কমিউনিকেশন সল্যুশন) তুলে ধরে। এসব সল্যুশন বিভিন্ন খাতে (যেমন: স্মার্ট সিটি, এয়ারপোর্ট, ফাইন্যান্স, বিদ্যুৎ এবং উৎপাদন ব্যবস্থা) ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

এই সম্মেলনে হুয়াওয়ে প্রথমবারের মতো স্মার্ট সিটির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রদর্শন করেছে। এই প্ল্যাটফর্মে মূলত পাঁচটি মৌলিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো- ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), বিগ ডেটা, জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ম্যাপ, ভিডিও ক্লাউড এবং সমন্বিত যোগাযোগ।

এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি স্মার্ট এয়ারপোর্ট সল্যুশনের ধারাবাহিকতায় এবার স্মার্ট এয়ারপোর্ট ২.০ সল্যুশন প্রদর্শন করেছে। এর মৌলিক বিষয়বস্তু হলো- নতুন নতুন প্রযুক্তি (ইন্টারনেট অব থিংস, বিগ ডেটা, ক্লাউড কম্পিউটিং)। একটি এয়ারপোর্টের তথ্য প্রবাহের উন্নয়নের জন্ই এই সল্যুশনটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেখানে এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এছাড়াও এ সল্যুশনের আওতায় এয়ারপোর্টের পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং বোর্ডিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাত্রীদের আরও ভালো অভিজ্ঞতা দিবে। স্মার্ট এয়ারপোর্ট ২.০ সল্যুশনে প্রযুক্তি লিংকগুলোতে বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভিডিও সার্ভেইলেন্স, বিগ ডেটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইন্টারনেট অব থিংস। হুয়াওয়ে বিশ্বের ৫০টির বেশি এয়ারপোর্ট, এয়ারলাইন্স এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষকে আইসিটি পণ্য, সল্যুশনস এবং সেবা সরবরাহ করে থাকে। যার মধ্যে ১৫টি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট আছে। যেখান থেকে বছরে ৩০ মিলিয়ন যাত্রী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণ করেন।

 

সিবিট সম্মেলনে হুয়াওয়ে আইসিটি প্রতিযোগিতা ২০১৮-১৯ ঘোষণা করেছে। ২০১৫ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। গত বছর (২০১৭-১৮) হুয়াওয়ের আইসিটি প্রতিযোগিতা অত্যন্ত সফলতার সাথে শেষ হয়েছে। ওই প্রতিযোগিতায় ৩২টি দেশের ৮০০ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ৪০ হাজার প্রতিযোগী অংশ নেন।  আসন্ন আইসিটি প্রতিযোগিতা ২০১৮-১৯ কয়েকটি রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে। যেমন: প্রাথমিক পর্যায়, জাতীয় চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা, আঞ্চলিক চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা এবং বৈশ্বিক চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতা উচ্চ মানের আইসিটি প্রতিভার উন্নয়ন নিশ্চিত করবে, ইন্ডাস্ট্রির জন্য দক্ষ মানবসম্পদ সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং টেকসই ট্যালেন্ট ইকোসিস্টেম গড়তে অবদান রাখবে।

হুয়াওয়ের বিজনেস গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ইয়ান লিডা বলেন, “ইউরোপীয় গানের সুর তৈরিতে জার্মানি যেমন বিখ্যাত তেমনি ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন তৈরিতে হুয়াওয়ে বিখ্যাত। হুয়াওয়ে তাদের গ্রাহক ও অংশীদারদের সাথে নিয়ে ক্লাউড-পাইপ-ডিভাইস নীতির মাধ্যমে গ্রাহকদের এবং অংশীদারদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করে। বিভিন্ন শিল্পে আমাদের বিশ্বব্যাপী সর্বোত্তম অনুশীলনের উপর ভিত্তি করে আমরা হুয়াওয়ের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, আমাদের অংশীদারদের অ্যাপ্লিকেশন এবং টার্মিনাল মাধ্যমে, পাশাপাশি ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন থেকে গ্রাহক সুবিধা প্রদর্শন করতে গ্রাহকদের এবং অংশীদারদের সাথে কাজ করি। একসাথে আমরা ডিজিটাল রূপান্তরকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। প্রতিটি এন্টারপ্রাইজ ভবিষ্যতে ডিজিটাল হবে এবং তারা নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম তৈরি বা প্ল্যাটফর্মের একটি অংশ হয়ে উঠবে। আমরা একটি সম্পূর্ণরূপে সংযুক্ত, বুদ্ধিমান বিশ্বের জন্য প্রতিটি ব্যক্তি ও সংস্থার জন্য ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে আশা করি।”

সিবিট-২০১৮ সম্মেলনে অংশীদারদের সহায়তায় হুয়াওয়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি তুলে ধরে, ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের নেতৃত্ব দেয় এবং গ্রাহকদের বিভিন্ন ট্রান্সফরমেশন তুলে ধরে। এর মাধ্যমে তারা ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের এক অনবদ্য সুরে আবদ্ধ হয়।

হুয়াওয়ে সম্পর্কে

হুয়াওয়ে বিশ্বের অন্যতম তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। সমৃদ্ধ জীবন নিশ্চিতকরণ ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি উন্নত ও সংযুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলাই হুয়াওয়ের উদ্দেশ্য। গ্রাহক-কেন্দ্রিক নতুনত্ব এবং উন্মুক্ত অংশীদারিত্বের দ্বারা পরিচালিত হয়ে হুয়াওয়ে একটি পরিপূর্ণ আইসিটি সমাধান পোর্টফোলিও প্রতিষ্ঠা করেছে যা গ্রাহকদের টেলিকম ও এন্টারপ্রাইজ নেটওয়ার্ক, ডিভাইস এবং ক্লাউড কম্পিউটিং-এর সুবিধাসমূহ প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ১৭০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে সেবা দিচ্ছে যা বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ জনসংখ্যার সমান। এক লাখ ৮০ হাজার কর্মী নিয়ে ভবিষ্যতের তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সমাজ তৈরির লক্ষ্যে হুয়াওয়ে কাজ করে চলেছে। এই বিশাল সংখ্যক কর্মীরা বিশ্বব্যাপী টেলিকম অপারেটর, উদ্যোক্তা ও গ্রাহকদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »