জাবিতে ইন্টারনেট সেবার দূরাবস্থা, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

ju_monogram_color
আহসান হাবীব,জাবিঃ
সারা দেশে তথ্য-প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধনে সরকারের নানা পদক্ষেপের পরও অতীতের মতই অপ্রতুল রয়ে গেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সেবা। বিভিন্ন সময় কিছু পদক্ষেপ নেয়া হলেও এর তেমন কোন গুনগত পরিবর্তন হয়নি। যার ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা, গবেষণা সহ বিভিন্ন সহ-শিক্ষা কার্যক্রম।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবাসিক হলগুলোতে ওয়াইফাই সংযোগ থাকলেও অধিকাংশ সময়ে তা ব্যবহার করা যায় না। এজন্য তারা ধীরগতি ও ডিভাইসের স্বল্প এরিয়া কাভারেজকে দায়ী করেন এবং দ্রুত এ সমস্যা নিরসনের দাবি জানান।

ইন্টারনেট সেবা দানের লক্ষ্যে ২০১১ সালে আবাসিক হলগুলোতে তারবিহীন ওয়াইফাই ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এরপর থেকেই লেগে রয়েছে নানা সমস্যা। কখনো ধীরগতি, আবার কখনো ওয়াইফাই রাউটারটিই নষ্ট থাকে। অভিযোগ করেও প্রতিকার পেতে লেগে যায় দীর্ঘ সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার সেন্টারে ৩০ টি কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হলেও তা এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। এছাড়া বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক সমস্যা ও ইন্টারনেট ধীরগতির কারনে মডেম ব্যবহার করেও কাঙ্খিত সেবা পাওয়া যাচ্ছেনা।

তবে আশার বাণী শুনিয়েছেন জাবি ইন্টারনেট সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমদ। তিনি জানিয়েছেন আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে ইন্টারনেটের সংযোগ আরো শক্তিশালী হবে।

তার সাথে কথা বলে জানা যায়, ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের ‘হাইয়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহেন্সমেন্ট প্রজেক্টের (হেকেপ)’ এর অংশ হিসেবে ‘নেটওয়ার্কিং প্রজেক্ট’ নামক প্রকল্পের আওতায় ক্যাম্পাসে ৪৫ কি.মি. অপটিক্যাল ফাইবার বসানো হয়েছে। এ প্রকল্পের অর্থায়ন করেছে বিশ্বব্যাংক যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্পের মেয়াদ ছিল জানুয়ারী ২০১১ থেকে ডিসেম্বর ২০১২। পরবর্তীতে এপ্রিল ২০১৩ পর্যন্ত এর মেয়াদকাল বৃদ্ধি করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ফরিদ আহমদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সার্ভিসে লোকবলের অভাব। এখানে কোন ওয়েব মাষ্টার বা প্রোগ্রামার নেই। লোকবল না থাকার কারনে অনেক সময় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যথাযথ সেবা প্রদান করা সম্ভব হয় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্থাপনকৃত অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষামূলক সংযোগ স্থাপন করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে করে জাবির ইন্টারনেট সমস্যা অনেকটাই লাঘব হবে।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা দ্রুত ইন্টারনেট ব্যবস্থার উন্নয়ন করে শিক্ষা, গবেষণাসহ সামাজিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

আমি ফারজানা চৌধুরী তন্বী। লেখালিখি করি ফারজানা তন্বী নামে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পর আজ প্রায় পাঁচ বছর ধরে লেখালিখির সঙ্গেই আছি। বার্তাবাংলা’য় কাজ করছি সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে। আমার বিশেষ আগ্রহের ক্ষেত্র ফিচার, প্রযুক্তি আর লাইফস্টাইল। ভালো লাগে ভ্রমণ, বইপড়া, বাগান করা আর ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে থাকা :)

মন্তব্য করুন »