বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Dating App

সপ্তাহ গড়ালেই ঈদের চাঁদ। আনন্দ চাঁদ ওঠেছে আরও আগে। কেনাকাটার ধুম দোকানে দোকানে। আর ঈদ আনন্দে এখন ঘরে ঘরে। এমন আনন্দ ধারায় বিষাদের সুরও বাজে দুঃখিনীর ঘরে। অসম সমাজ, সবার জন্য আনন্দ বার্তা বয়ে আনে না। আনন্দ তরীতে ওঠা সবার ভাগ্যেই জোটে না।

তবে ভালোবাসার হাত যদি প্রসারিত হয়, দুঃখ সাগরেও সুখের ধারা প্রবাহিত হয় কারও কারও জীবনে। শনিবার বিকেলে গুলশান (বাড্ডা) লেকের পাড়ে এমনই ভালোবাসার হাত মেলে ধরেছেন সুমন, তাহসিনা, তন্নিরা। আর তাতেই পথশিশুদের মাঝে ঈদ আনন্দ একেবারে উপচে পড়ছে।

স্বপ্নের দোকান। ‘স্বপ্ন’ বেচাকেনা হয় যে দোকানে। ফুটপাতের শিশুদের জন্য ঈদ পণ্য। বেচাকেনার ধুমও পড়েছে বেশ। একজন কিনে দৌড়ে গিয়ে আরেকজনকে ডেকে আনছেন। শরীরের মাপ দিয়েই গায়ে পরিয়ে দিচ্ছে বিক্রেতা তন্নিরা। অসহায় শিশুরা কিনতে পারছে, তাদের ইচ্ছে মতো। গেঞ্জি, শার্ট, প্যান্ট, ফ্রক যেটি দরকার, সেটিতেই হাত দিয়ে দেখাচ্ছে। পোশাকের রং-ও পছন্দ করছে শিশুরাই। তবে দরদামবিহীন। পছন্দ হলেই স্বপ্নপূরণ। স্বপ্নের দোকানে ফিরিয়ে দিচ্ছে না কাউকেই। পোশাকের সঙ্গে মিলছে হরেক রকম খেলনাও। শুধু ভালোবাসার দরেই কিনতে পারছে নতুন নতুন পোশাক।

জৈষ্ঠের দাবদাহে রাজধানীতে জীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন হাতিরঝিলে এক টুকরো ‘আনন্দমেলা’। ক্রেতা-বিক্রেতার পরম ভালোবাসার ছোঁয়ায় ঈদ আনন্দের এক মিলনমেলা।

নতুন পোশাকে আনন্দ ধরছে না চার বছরের শিশু সাইদুলের। নিজে পোশাক পেয়ে বাড়ি থেকে বড় বোন সাদিয়াকেও ডেকে নিয়ে এসেছে। সাইদুলের জন্মের পরের বছরেই বাবার মৃত্যু হয়। মা এখন অন্যের বাসায় কাজ করেন। ঈদে মা পোশাক কিনে দিতে পারবে কিনা, তা অনিশ্চিত থাকলেও স্বপ্নের দোকানে নতুন পোশাক মিলেছে ওদের। আনন্দ প্রকাশ পাচ্ছিল ওদের চোখে-মুখে। ‘ভালো লাগছে। জামা দিয়েছে। খেলনাও দিয়েছে আমাকে। আর আপুকে ফ্রক’ বলছিল, অনাথশিশু সাইদুল।

এদিন বাড্ডা ‘স্বপ্নের দোকান’ পরিচালনা করছিলেন আবু বকর সিদ্দিক সুমন। রাজধানীর শাহজাদপুরে খাবার রেস্তোরাঁ আছে সুমনের।

বলেন, ২০১৬ সালে পথশিশুদের মাঝে আনন্দ দেয়ার জন্যই ‘স্বপ্নের দোকান’ প্রতিষ্ঠা। ব্র্যাকের শিক্ষার্থী নাইম ভাই এর প্রতিষ্ঠা দেন। একবার ঈদ উপলক্ষে দোকানে কাপড় কিনতে গিয়েছিলেন সে। শপিং মলের সামনে পথশিশুদের ভিড় দেখেই তিনি শিশুদের মাঝে কাপড় কিনে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে নিজেই রাস্তায় দোকান দিয়ে বিনামূল্যে শিশুদের মাঝে কাপড় বিতরণ করতে থাকেন। পরে আরও বন্ধুরা সম্পৃক্ত হন। এরপর ফেসবুকে গ্রুপ খোলা হয়। আমরাও যুক্ত হলাম। দিন যাচ্ছে বন্ধুদের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে ভালোবাসার পরিধি। শনিবার রাজধানীর ৯টি পয়েন্টে দোকান দিয়ে শিশুদের মাঝে বিনামূল্যে কাপড় বিতরণ করা হচ্ছে। রাজধানীর বাইরেও এখন স্বপ্নের দোকানের শাখা রয়েছে।

শিশুদের গায়ে কাপড় পরিয়ে দিচ্ছিলেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তন্নি এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহসিনা ইসলাম। তাহসিনা বলেন, ভালোবাসার ব্যাপ্তি কখনও সীমনায় আটকে রাখা যায় না। অন্যের আনন্দই তো নিজের আনন্দ। নিজের ঈদ আনন্দ পথশিশুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতেই এই প্রচেষ্টা। বন্ধুদের দেয়া অর্থ থেকেই আমাদের এই বিনামূলের দোকান। ভালোবাসার রঙিন পরশে মুছে যাক সকল বিষাদের রং।

Dating App
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »