বার্তাবাংলা ডেস্ক »

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা উচ্চহারে আমদানি শুল্কের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাল্টা জবাব দেয়ার হুমকি দিয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম শুল্ক থেকে সাময়িক রেয়াত দিলেও শুক্রবার থেকে এ শুল্ক আবারো কার্যকর হলে কানাডা, মেক্সিকোসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্য মিত্রদের পাশাপাশি বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ইইউ। খবর এএফপি।

মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করার হুমকি ছাড়াও ব্রাসেলস শুক্রবার ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ইস্পাতের ওপর ২৫ শতাংশ ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ১০ শতাংশ শুল্কের জন্য ওয়াশিংটন ছাড়াও মেধাস্বত্ব-সংক্রান্ত বিষয়ে চীনের বিরুদ্ধেও ডব্লিউটিওর দ্বারস্থ হয়েছে ইইউ।

ইইউর ট্রেড কমিশনার সেসিলিয়া মালমস্ট্রম ব্রাসেলসে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যদি অংশগ্রহণকারীরা আইনের বই মেনে না চলে, তবে ব্যবস্থাটি ধসে যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, এ কারণে আমরা ডব্লিউটিওতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে চ্যালেঞ্জ করছি এবং এর মাধ্যমে বলতে চাইছি, আমরা কারো পক্ষপাতিত্ব করছি না।

উল্লেখ্য, মার্চে এ শুল্ক আরোপ করলেও ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের বৃহত্তম সরবরাহকারী কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ৩১ মে পর্যন্ত রেয়াত দেয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রেয়াতের মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান ট্রাম্প।

মার্চ থেকেই ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শুল্কের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিকল্পনা করলেও শুক্রবার অবশেষে এ পদক্ষেপ নিল ইইউ। সাধারণত ডব্লিউটিওতে অভিযোগ নিষ্পত্তি হতে বেশ কয়েক বছর লেগে যায়। এর আগে সর্বশেষ ২০০২ সালে ডব্লিউটিওতে ইস্পাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ইইউ। প্রায় দেড় বছর পর সে মামলার রায় ইইউর পক্ষে যায়।

আইনি পদক্ষেপ ছাড়াও ইইউ প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার সমমূল্যের বিভিন্ন মার্কিন পণ্য, যেমন বারবোন, মোটরসাইকেল এবং ব্লু-জিন্সের বিরুদ্ধে কর আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অন্যদিকে কানাডা ১ হাজার ২৮০ কোটি ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্কের ঘোষণা দিয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে আছে— গরুর মাংস, কফি, ক্যান্ডি, প্লাইউড, ম্যাপল সিরাপ এবং ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মার্কিন প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি নিয়ে আমরা আক্ষেপ করছি এবং অবশ্যই এর পাল্টা পদক্ষেপ নেব।

মেক্সিকো ঘোষণা দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও শিল্পপণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করবে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র সরকার শুল্ক প্রত্যাহার না করবে, ততক্ষণ তারা শূকরের পা, আপেল, আঙ্গুর, পনির, ইস্পাত ও অন্যান্য মার্কিন পণ্যকে নিশানা বানাবে।

কানাডায় অনুষ্ঠেয় গ্রুপ অব সেভেনের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানিউচিনকে বাচিক আক্রমণ করেন অন্যান্য দেশের মন্ত্রীরা। তারা বিশ্ব-অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলার জন্য ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করেন।

ফরাসি অর্থমন্ত্রী ব্রুনো লো মেয়ার শুক্রবার জি৭-এর আলোচনাকে ‘জি৬ ও আরো একটি’ আখ্যা দেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বাকি সবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের লো মেয়ার বলেন, ফরাসি, ব্রিটিশ ও জার্মানরা দৃঢ় অবস্থানে আছে। সবাই মার্কিন সিদ্ধান্তগুলোর ব্যাপারে তাদের বোধের অগম্যতা প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে, যেহেতু মার্কিনরা এ শুল্ক আরোপ করেছে, সেহেতু তাদেরই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে।

জার্মান অর্থমন্ত্রী ওলাফ শুলজ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি মানিউচিনকে জানিয়েছেন যে, শুল্কগুলো ‘অগ্রহণযোগ্য’।

জি৭-এর বৈঠকটিতে কর রেয়াত, ক্রিপ্টোকারেন্সি ইত্যাদি নিয়ে কথা হলেও বৈঠকের সভাপতি ও কানাডার অর্থমন্ত্রী বিল মরনো অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককেই একে একে মানিউচিনের ওপর ক্ষোভ প্রদর্শনের সুযোগ দেন বলে কানাডীয় এক সূত্রে জানা গেছে।

তবে বৈশ্বিক এ বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব কতখানি পড়বে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দ্বিমত দেখা গেছে। বেরেনবার্গ ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ হোলগার স্মাইডিং মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইইউর বাণিজ্যযুদ্ধের সরাসরি প্রভাব বিশ্ব-অর্থনীতিতে খুবই কম। তবে তিনি এও মনে করেন, ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের এ রীতি ব্যবসায়ে আত্মবিশ্বাস, বিশেষ করে বাণিজ্যনির্ভর দেশগুলোর জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসবে।

অন্যদিকে জার্মান গাড়ি নির্মাতা ফেডারেশন মার্কিন শুল্ক আরোপকে ‘অবোধগম্য’ আখ্যা দিয়েছে। ভিডিএ ফেডারেশন জানায়, সংযুক্ত

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে, ভোক্তা বাধা কাউকেই উপকৃত করে না, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও না।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »