বার্তাবাংলা ডেস্ক »

গাঁজার জন্য গোল্ডেন ভিলেজ হিসেবে খ্যাত কুষ্টিয়া। আর কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ১৭৫ একর এলাকায় যত্রতত্র জন্মেছে গাঁজা এবং ভাঙের গাছ। ধারণা করা হচ্ছে শিক্ষার্থীরা গাঁজা সেবনের পরে বীজ যেখানে সেখানে ফেলায় বৃষ্টির পানির ছোঁয়ায় ব্যাপক হারে জন্মেছে এ গাঁজা গাছ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল, বঙ্গবন্ধু হল পকুড় পাড়, জিয়া হল, জিয়া হল মোড়, মফিজ লেক এবং সাদ্দাম হোসেন হলের আশেপাশে জন্মেছে প্রচুর গাঁজা এবং ভাঙের গাছ। এ নিয়ে উদ্ধেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ২য় ও ৪র্থ আন্তর্জাতিক ব্লকের মাঝখানে আগাছার মধ্যে জন্মেছে ২০-২৫টি গাঁজা গাছ। এর মধ্যে গত ২১ মে পশ্চিম অংশের ঝোপ পরিস্কার করে হল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ৩-৪ ফুট লম্বা দুইটি গাঁজা গাছ না কেটে রেখে দিলে তা সকলের নজড়ে আসে। তবে এখনো একই ব্লকের পূর্ব অংশের ঝোপের মধ্যে আরও ২০-২২টি গাঁজা গাছ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ব্লকে অবস্থান করে এমন এক গাঁজা সেবনকারী বলেন,‘গাঁজার অধিকাংশ জটের মধ্যে বীজ থাকে। সাধারণত এ বীজগুলো রুমের সামনের এই খোলা অংশেই ফেলা হয়েছে। বৃষ্টি পেয়ে বীজ থেকে চারা জন্মাতে পারে বলে ধারণা করছি।’ তিনি আরও বলেন, একই ভাবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন যায়গায় যে গাাঁজার চারা গাছ দেখা যাচ্ছে এগুলো বৃষ্টির কারণেই মূলত জন্মেছে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু হল ছাড়াও জিয়া হলের সামনে এবং পিছনে, ক্রিকেট মাঠের পাশে, রালন শাহ হলের পিছনে, মফিজ লেকে এবং সাদ্দাম হোসেন হলের পাশে ব্যাপক হারে জেন্মছে গাঁজার চারা। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু হলের পুকুরপাড়সহ ক্যাম্পাসে অজস্র পরিমাণ জন্মেছে গাঁজা ও ভাঙের গাছ।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরে ব্যাপক হারে গাঁজার গাছ জন্মানোয় উদ্ধেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ সচেতন শিক্ষক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জন শিক্ষক বলেন, ‘ক্যাম্পাসের যেখানে সেখানে গাজা ও ভাঙের গাছ দেখে সহজে অনুমান করা যায়, ক্যাম্পাসে মাদক সেবনের ভয়ঙ্করতা। ’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন,‘মাদকাসক্ত এবং মাদক সম্পৃক্ত উভয়ের ব্যাপারে প্রশাসন জিরো টলারেন্স। প্রথমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরী করে পরে এ্যাকশনে যাওয়া হবে। মাদক মুক্ত ক্যাম্পাস গড়াই আমার স্বপ্ন।’

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »