বার্তাবাংলা ডেস্ক »

যুগ যুগ ধরে রাজা, বাদশা, আমির, ফকির নির্বিশেষে বাঙালিরা হাত দিয়েই খাবার খেয়েছে। তবে তখনও চামচ বস্তুটি ছিল। তা অন্য কাজে ব্যবহার করা হতো। পরে ইউরোপীয় সংস্কৃতি বাঙালির মধ্যে ঢুকে যায়। ফলে হাত দিয়ে খাবার খাওয়াকে তারা ছোটলোকের কাজ বলে মনে করতে থাকেন।

নিজেকে উঁচু স্থানের মানুষ বানাতে গিয়ে তারা হাত ছেড়ে চামচ দিয়ে খাবার খাওয়া শুরু করেন। অথচ প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র জানায়, হাত দিয়ে খাবার খাওয়া মোটেই অস্বাস্থ্যকর কিছু নয়। বরং তা দেহের জন্য বিশেষ উপকারী।

ধ্যানমুদ্রা
খাবার হাত দিয়ে খাওয়ার সময় আঙুল বিভিন্ন মুদ্রায় স্থিত হয়। এই মুদ্রাগুলোর অধিকাংশই যোগ-বর্ণিত ধ্যানমুদ্রা। এতে আত্মিক ও আধ্যাত্মিক উভয় প্রকার উন্নতি হয়।

সনাতন ধর্ম
বৈদিক মন্ত্রে বলা হয়েছে, ‘করাগ্রে বসতে লক্ষ্মী’। এই মন্ত্রে হাত দিয়ে খাবার গ্রহণের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। সনাতন ধর্মে বলা হয়, করাঙ্গুলি আমাদের কর্মেন্দ্রিয়। এর স্পর্শে খাবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। খাবার হাত দিয়ে খেলে তা তাদের প্রসাদে পরিণত হয়।

আয়ুর্বেদ
আয়ুর্বেদ মতে, পঞ্চাঙ্গুলি পঞ্চভূতের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ ব্যোমের, তর্জনি বায়ুর, মধ্যমা অগ্নির, অনামিকা জল ও কনিষ্ঠা মাটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। হাত দিয়ে খাবার খেলে এই পঞ্চভূতও শরীরে প্রবেশ করে।

খাবারের স্বাদ
বাঙালি যে ধরনের খাবার খান, তা তৈরি করতে হাতের প্রয়োজন। হাত দিয়েই ভাত মেখে খাওয়া সম্ভব। অন্য কোনোভাবে খাবার খেলে তার স্বাদ নষ্ট হয়। যে খাবার খেতে বিস্বাদ লাগে, তা পাকযন্ত্রের উপরে চাপ ফেলে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »