বার্তাবাংলা ডেস্ক »

khaleda jiaবার্তাবাংলা ডেস্ক :: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয় লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে সন্ত্রাসীরা। এসময় গেটে অবস্থানরত পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা ধাওয়া করলে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সময় আরও দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে তারা।

এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকাল ১০টায় পল্টনে প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এদিকে, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে রাত ২টায় গুলশান থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা করেছেন খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা কর্মী ওমর ফারুক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাত সাড়ে ১১টায় ৩টি মোটরসাইকেলে ৬ জন যুবক বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এসে কেউ বুঝে ওঠার আগেই ভবন লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি করে।

এসময় বিএনপি চেয়ারপারসন এবং তার প্রেস সচিবসহ আরও বেশ কজন নেতা-কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল জানান, দুটি মোটরসাইকেলে করে কতিপয় সন্ত্রাসী ভবনটির দোতলা লক্ষ্য করে গুলি করে। তবে গুলি ভবনের কোথাও লাগেনি।

কেউ হতাহত হয়নি বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনার পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিদর্শন করেছি।”

গুলশান থানার ডিসি লুৎফর কবির এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, “এটি একটি কূটনৈতিক এলাকা। এখানে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যাবস্থা আগেও রাখা হয়েছিল, এখনও তা বলবৎ আছে।”

তিনি গুলির ব্যাপারে বলেন, “মাটিতে যে দাগ দেখা গেছে, আমাদের বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষা করে দেখবেন তা গুলির দাগ কিনা। পরীক্ষা না করে কিছু ই বলা যাচ্ছে না।”

মামলা করার বিষয়ে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আলাপ আলোচনা চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য ও অন্যান্য বিষয়ে তদন্ত করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা শুনতে পেয়েছি তিনটি মোটরসাইকেল গুলশান ৯নং এর দিক থেকে এসে বিপরীত দিকে যাওয়ার সময় দোতলা লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়। তবে সব কিছুই এখনও তদন্তনাধীন। তদন্তের পর সব বলা যাবে।”

এ ঘটনার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ মিছিল করছেন। উপস্থিত নেতাদের মধ্যে আছেন দলের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, খায়রুল কবীর খোকনসহ অনেকে।

এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »