বার্তাবাংলা ডেস্ক »

ইতিহাস গড়ে বার্সেলোনা থেকে যোগ দিয়েছিলেন ফ্রেঞ্চ ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইতে। ২২২ মিলিয়ন ইউরোর নজরকাড়া এক ট্রান্সফারে বার্সা থেকে নেইমারকে কিনে নেয় তারা। তারপর থেকেই আয়ের দিক দিয়ে মেসি-রোনালদোর বেশ ধারে কাছেই আছেন নেইমার। গত মৌসুমে আয় করেছেন ৮ কোটি ১৫ লাখ ইউরো। কিন্তু নেইমারের আকাশচুম্বী এই আয়ের বিপরীতে একটি ক্লাবের বাৎসরিক আয়ই নেইমারের ধারে কাছেও নেই। আবার সেই ক্লাবের বিপক্ষেই আগামীকাল ফ্রেঞ্চ কাপের ফাইনাল খেলতে নামবে পিএসজি।

ফ্রান্সের তৃতীয় বিভাগের ক্লাব লেস হার্বেইরস। বাঘা বাঘা সব ক্লাবকে টপকে এই দলটিই এখন ফাইনালে যেখানে তারা পড়েছে ফ্রান্সের সেরা ক্লাব পিএসজির সামনে। কিন্তু পিএসজি ক্লাবের বার্ষিক বাজেট যেখানে ৫৪০ মিলিয়ন ইউরো সেখানে এই পুঁচকে ক্লাবটির বাজেট শুনলে আপনার চোখ কপালে উঠবে। মাত্র দুই মিলিয়ন! যা নেইমারের মাত্র ১৬ দিনেই আয় করতে পারেন।

২০১৭ সাল থেকে ফ্রেঞ্চ কাপে ৮ হাজারেরও বেশি দল অংশ নেয়ার নতুন রুলস জারি করে ফ্রান্স ফুটবল কর্তৃপক্ষ। যার আলোকে ফ্রান্সের অধীনে থাকা বিভিন্ন দ্বীপগুলোর ক্লাব এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। ফ্রান্সের জাতীয় এই টুর্নামেন্টে ১৫ হাজারের সামান্য বেশি মানুষের শহর লেস হার্বেইরস অন্য সবাইকে টপকে ফাইনালে ওঠে। মজার ব্যাপার হলো এই শহরের জনসংখ্যা ১৫ হাজার ৯৩৩ জন যার ভেতর ১৫ হাজার টিকিটই কিনে নিয়েছে তারা। ধরতে গেলে পুরো শহরই ফাইনাল দেখতে আসছে প্যারিসে।

পিএসজির সাথে ফাইনালে ওঠার পথে শক্তিশালী লেন্স এবং অজিরে ক্লাবগুলোকে হারিয়ে এসেছে তারা। লেস হার্বেইরস ক্লাবের খেলোয়াড়দের গড় আয় মাসে ২৫০০ ইউরো। যা নেইমার আয় করেন মাত্র ৩৬ মিনিটে। লেস হার্বেইরস ক্লাবের এমন আর্থিক ভঙ্গুরতাকে কটাক্ষ করে পিএসজির রাইট ব্যাক থমাস মুনিয়ার বলেছেন, ‘আশা করছি ২০ মিনিটের ভেতরেই ফাইনাল শেষ হয়ে যাবে’। কিন্তু ভয়ও রয়েছে পিএসজির সামনে। এর আগে ফ্রেঞ্চ কাপের ইতিহাসে তিনটি তৃতীয় বিভাগের দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ২০১২ সালে সর্বশেষ তৃতীয় বিভাগের দল কুইভেলি চ্যাম্পিয়ন হয় এই টুর্নামেন্টের।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »