রুমানা ইয়াসমিন, জার্মানি থেকে »

বাংলা পঞ্জিকার পাতায় বৈশাখের শেষার্ধ চলছে। বাংলাদেশেও পহেলা বৈশাখের উদযাপন এখন স্মৃতির পাতায়। তবে স্থান-কাল যাই হোক না কেনো, যেখানেই কিছু বাঙ্গালি সমবেত হয়, সেখানেই একখন্ড বাংলাদেশ রচিত হয়। বৈশাখের ১৬ তারিখে(২৮ এপ্রিল, ২০১৮, রবিবার) জার্মানির বন্দর নগরী হামবুর্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে তেমনই এক মিলনমেলার আয়োজন হয়েছিলো।

পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত এবং শ্রী ভগবৎ গীতা পাঠের মাধ্যমে সার্বজনীন বাঙ্গালি এই উৎসবের সূচনা হয় নগরীরওয়াইজেনহোফের ব্লাওয়ার সালোন কমিউনিটি হলে।

এসো হে বৈশাখ, এসো এসো

তাপস নিঃশ্বাস বায়ে

মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে

বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক

এসো এসো

সমবেত কণ্ঠে গাওয়া এই গানের মাধ্যমে বৈশাখকে বরণ করেন জার্মানির হামবুর্গ প্রবাসী বাংলাদেশিরা। শিশুদের কণ্ঠে কবিতা-ছড়া আবৃত্তি ছাড়াও শ্রুতি নাট্য, গ্রাম বাংলার শেকড় থেকে উঠে আসা ভাটিয়ালী, পল্লীগীতি, বাউল গানের তালে নাচের দোলেমুখরিত হয়ে ওঠে গোটা কমিউনিটি হল প্রাঙ্গণ ডুয়েট গান পরিবেশন করেন প্রবাসী দম্পতি মৃদুল ও চুমকি। আনন্দলোকে মঙ্গললোকে নৃত্য পরিবেশন করে ফারজানা ও চুমকি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে শিশুদের মাঝে বৈশাখী উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

দেশ থেকে সাতহাজার কিলোমিটার দূরে বসেও যারা দেশের মায়া ভুলতে পারেন নি। শাড়ী-চুড়ি আর পাজামা-পাঞ্জাবী পরা প্রবাসীনারী-পুরুষেরা তাদের পরিবার-পরিজন, আত্নীয়-বন্ধুদের নিয়েপ্রাণের টানে এই বৈশাখী উৎসবে ছুটে এসেছিলেন। নানান পেশার শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি সেখানে সমবেত হয়েছিলেন। পরভূমে, তৃষ্ণার্ত হৃদয় এসকল প্রবাসীগণ খাটি বাংলা ভাষায় গল্প, কৌতুক, আর কুশল-বিনিময়ের বিরল এই আড্ডায় মেতে ওঠেন। তাদের চিন্তা-চেতনার কতোটা জায়গা জুড়ে দেশত্ববোধ আর বাংলাদেশ নামক ব-দ্বীপ রাষ্ট্রটির মানচিত্র আঁকা রয়েছে, প্রবাসের এমনসব আড্ডায় হাজির না হলে কোনক্রমেই উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।    

পহেলা বৈশাখের এই উৎসবে বাঙ্গালি পিঠার সঙ্গে মুড়ি-মুড়কির পরিবেশনা যেমন ছিলো; তেমনি ভর্তা-ভাজি আর ইলিশের স্বাদে-গন্ধে ষোলআনা বাঙ্গালিয়ানায় ভরপুর রসনা বিলাসেরআয়োজন ছিলো।

এই আয়োজনের উদ্যোক্তারা জানান, বৈশাখের মতো এমন একটি উৎসব উপলক্ষ্যে কাছে-দূরের সবার সঙ্গে দেখা করার একটা সুযোগ মিলে যায়। প্রবাসী অনেক নারী-পুরুষ আছেন যারা দেশ থেকে সখ করে পাজামা-পাঞ্জাবী, শাড়ি-গহনা নিয়ে আসেন। বৈশাখের এই উৎসবটিতেই কেবল সেসব পরার সুযোগ পান। শিশুরাও তাদের শেকড়, বাবা-মায়ের দেশ, ভাষা, সংস্কৃতি জানার, বোঝার ও উপভোগ করার সুযোগ পায় এমন একটি আয়োজনের মধ্য দিয়ে। উল্লেখ্য, জার্মানির দ্বিতীয় জনবহুল শহর হামবুর্গে দুইশতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশির বসবাস।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »