বার্তাবাংলা ডেস্ক »

দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানো রাজীব হোসেনকে (২১) বাঁচানো গেল না (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্ট রাখা হয়েছিল তাঁকে।

গতকাল সোমবার দিনগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে আইসিইউর চিকিৎসক রাজীবকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসক ডা. রেজার বরাত দিয়ে রাজীবের চাচা আলামিন জানান, আইসিইউর চিকিৎসকরা রাতে তাদের ডেকে নিয়ে জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাইফ সাপোর্টে থাকা রাজীবের অবস্থা অবনতি হয়। বহু চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচাতে পারলেন না তাঁরা। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে রাজীবকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

মধ্যরাতে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও রাজীবের মৃত্যুর বিষয়টি জানান।

ঢাকা মেডিকেল জরুরি বিভাগের চতুর্থতলায় আইসিইউর সামনে মধ্যরাতে রাজীবের স্বজনদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। রাজীবের খালাতো বোন রাবেয়ার কান্না থামছিল না।

গত ৩ এপ্রিল বিআরটিসির একটি দোতলা বাসে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলেন রাজধানীর মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। ওই সময় তাঁর ডান হাতটি বাসের সামান্য বাইরে ছিল। ওই সময় হঠাৎই পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসির বাসের গা ঘেঁষে ওভারটেক করার সময় রাজীবের ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পথচারীদের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত শমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় দুই বাসের চালককে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা কারাগারে রয়েছেন।

রাজীবের হাত হারানোর ঘটনায় হাইকোর্ট দুই বাসের মালিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »