‘হায় মুজিব’, ‘হায় মুজিব’ বলে সমােলোচিত যুবলীগ কর্মী খুন

স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি পালনের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরের ৩৮ নম্বর দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর এলাকার স্কুলের ভেতরে যুবলীগের এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

সোমবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে তাঁকে কোপানো হয়। চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য স্থানীয় ইকবাল আলী ওরফে হাজি ইকবালকে দায়ী করেছেন নিহত মহিউদ্দিন ওরফে মহির (৩৭) আত্মীয় এবং দলীয় নেতা-কর্মীরা।

নিহত যুবলীগ কর্মী মহিউদ্দিন স্থানীয় রাজনীতিতে প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। আজ ভোর থেকে স্থানীয় মেহের আফজাল স্কুলমাঠে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ মহান স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি পালন করছিল। শুরু থেকেই মহিউদ্দিন ওই কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশ নেন। বেলা পৌনে দুইটার দিকে মহিউদ্দিন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ওই কক্ষে ঢুকে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।

এদিকে মহিউদ্দিনকে হত্যার খবর পেয়ে দলীয় নেতা-কর্মী বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিড় করেন। মহিউদ্দিনের মা, আত্মীয়স্বজন এবং কিছু দলীয় কর্মীদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

গত বছরের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে ‘শোক দিবস উদ্‌যাপন পরিষদ ২০১৭ চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা)’ ব্যানারে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। ওই কর্মসূচিতে ৫০ থেকে ৬০ জন লোক অংশ নিয়েছিলেন। তখন হাজি ইকবাল জিঞ্জির চাকু (ধারালো ছুরি ও ব্লেডের গুচ্ছ) দিয়ে নিজের শরীরে আঘাত করছিলেন, আর বলছিলেন ‘হায় মুজিব’, ‘হায় মুজিব’। বেশ কিছুক্ষণ ধরে তাঁর এই মাতম চলে। এ সময় তাঁর আরও অনুসারীও শার্ট খুলে একই কাণ্ড ঘটান। বঙ্গবন্ধুর জন্য শোক প্রকাশের নামে এমন বিকৃত আচরণের ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ভাইরাল হলে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

চট্টগ্রামের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মইনুল ইসলাম বলেছেন, এই খুনের ঘটনায় হাজি ইকবাল ও তাঁর অনুসারীরা জড়িত বলে তাঁরা সন্দেহ করছেন। তাঁদের ধরতে অভিযান চলছে।