বার্তাবাংলা ডেস্ক »

IMG0006A
এস এ চৌধুরী, মৌলভীবাজার:: মৌলভীবাজারের স্কুলগুলোতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে । সরজমিন সদ্য প্রকাশিত পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কৃতকার্য ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার জন্য বিদ্যালয়গুলোতে ভিড় জমালে সরকারের শিক্ষামন্ত্রণালয়ের বিগত ১৩ নবেম্ভর ২০১২ খ্রিস্টাব্দ নং ৩৭.০০.০০০০.০৭২.৪৪.০৯০.১২-৭৯৭ বিষয় বেসরকারী স্কুল/স্কুল এন্ড কলেজে মাধ্যমিক,নিম্নমাধ্যমিক ও সংযুক্ত প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা ২০১২ আদেশের ৯ এর খতে সেশনচার্জসহ ভর্তি ফি সর্বসাকুল্যে মফস্বল এলাকায় ৫০০/-(পাচশত) পৌর (উপজেলা) এলাকায় ১০০০/-(একহাজার) পৌর (জেলা সদর) এলাকায় ২০০০/-(দুই হাজার) ঢাকা ব্যতিত অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩০০০/-(তিন হাজার) টাকার বেশি হবেনা এবং ১০এ ভর্তির ফরম এবং ভর্তির ফি বাবদ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অর্থের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবেনা,করলে সরকার এমপিও বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমন শাস্তির বিধানের উল্লেখ করা হলেও জারিকৃত নিয়মের তোয়াক্কা না করে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির তৈরীকৃত (বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি) নিয়মে বা সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে রমরমা ভর্তি বাণিজ্য শুরু হয়েছে । অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি এএটিএম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় । জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ৪নং শমশেরনগর ইউনিয়নের ইউনিয়ন সদরে অবস্থিত প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এএটিএম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় । নতুন বছরের পহেলা জানুয়ারী থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির জন্য সেশনফিসহ বিভিন্ন খাত দেখিয়ে জনপ্রতি একহাজার পাচশত থেকে একহাজার আটশত টাকা হারে নিয়ে ভর্তি করা হচ্ছে এমন অভিযোগ রয়েছে । শুধু তাই নয় কোনো ছাত্র বা ছাত্রী টিসি নিতে গেলে প্রথমে ভর্তি দেখিয়ে ভর্তি ফি আদায় করে টিসি ফি নিয়ে টিসি দেয়া হচ্ছে ।  এ বিষয়টির ব্যাপারে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের কন্ট্রোলার এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার জন্য পরামর্শ দিলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ (মাধ্যমিক) এর সাথে যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনের মাধ্যমে তিনি  বার্তা বাংলাকে জানান, শিক্ষামন্ত্রণালয়ের  তৈরীকৃত ভর্তি সংক্রান্ত নির্দেশনা আমরা স্কুলগুলোতে পাঠিয়ে দিয়েছি বলে আরো জানান, সেশনফি, উন্নয়ন, মিলাদ, পূজা, স্কাউট, গার্লস গাইডসহ যাবতীয় খাত বাবদ সর্বসাকুল্যে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্কুলগুলো সর্বোচ্চ জনপ্রতি পাচশত টাকা এবং উপজেলা পর্যায়ের স্কুলগুলো সর্বোচ্চ একহাজার টাকা হারে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করবে । এর বাইরে যাওয়ার নিয়ম নেই । তবে স্কুল পরিচালনা কমিটি তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক  গরীব অসহায়দের কাছ থেকে বিবেচনা করে উল্লেখিত টাকার চেয়ে কম নিয়েও ভর্তি করতে পারবে । ম্যানেজিং কমিটি সিদ্ধান্তে উন্নয়নখাতের কথা বলে অতিরিক্ত টাকা নেয়া পুরোপুরি নিয়মের বাইরে এটা অন্যায় । বিষয়টির ব্যাপারে জানতে চাইলে এএটিএম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিহির ধর চৌধুরী পিংকু সত্যতা নিশ্চিত করে নিয়ম মোতাবেক সেশনফিসহ  বাবদ জনপ্রতি একহাজার টাকা হারে নিয়ে ভর্তি করা হচ্ছে বলে জানান । এক প্রশ্নের উত্তরে স্কুলের অবকাঠামোগত নানান সমস্যা তুলে ধরে ও পর্যাপ্ত সরকারী বরাদ্দ নাপাওয়ার অভিযোগ করে বলেন, স্কুল পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তে উন্নয়নখাতে তিনশত টাকা হারে নেয়া হয়েছে । ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ নাকরার  অনুরোধ জানিয়ে বলেন কমিটির অনেকেই  নতুন অনেক কিছুই জানেনা বলে প্রধান শিক্ষক এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক সুবিধা নিচ্ছেন । ভর্তি ফির বাড়ানোর জন্য সভাপতি অপু ও সদস্য সিরাজুর রহমানের জোরালো ভূমিকা ছিল । স্কুলের ভিতরে অনেক কিছুই হচ্ছে আপনারা আসেননা তাই জানেননা । কমিটির জনৈক এক অভিভাবক সদস্য বলেন কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে ভর্তি ফি ছেলেদের ১১৫০ এবং মেয়েদের ১২৫০ টাকা হারে নেয়া হচ্ছে জানিয়ে বলেন প্রধান শিক্ষক তার একগুয়েমি দেখিয়ে অনেক কিছুই করছেন । আমি নতুন তাই নিয়মকানুন সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নয় বা জানিনা । বিষয়টির ব্যাপারে মুঠোফোনে আলাপকালে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবিএম আরিফুজ্জামান (অপু) অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সত্যতা স্বীকার করে এবং মার্চ মাস পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে জানিয়ে রলেন,বিএএফ শাহীন কলেজসহ ঢাকার নামীদামী অন্যান্য স্কুলেও বাড়তি টাকা নিয়ে ভর্তি করা হচ্ছে। স্কুলের অবকাঠামোগত নানান সমস্যা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন,এলাকার অভিভাবকদের আমাদের প্রতি দাবী রয়েছে তাদের দিকটাও আমাদের দেখতে হবে। মার্চ মাসে অভিভাবকদের নিয়ে একটি সভার আয়োজন করা হবে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে এবং শমশেরনগর এএটিএম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও হাজী মোঃ উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে মর্মে স্থানীয় সচেতন অভিভাবকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন এমন প্রশ্নোত্তরে  কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকাশ কান্তি চৌধুরী বলেন,নিয়মের বাইরে গিয়ে ম্যানেজিং কমিটি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা । কমলগঞ্জের একটি স্কুলের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি । তারপরও আমি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলে দিচ্ছি বিষয়টির ব্যাপারে প্রত্যেক স্কুলের প্রধানদেরকে সতর্ক করে দেয়ার জন্য ।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »